পশ্চিমবঙ্গের মতো এবার দিল্লির ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় পর্যালোচনা বা এসআইআর ঘিরেও নতুন করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৩৩ লাখ ভোটারকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তার পরিবারের সদস্য- সহ একাধিক পরিচিত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিরা। তবে কমিশন স্পষ্ট করেছে, নোটিশ পাওয়া মানেই ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নয়। নথি যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে।
৩১ আগস্ট দিল্লির খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর শুরু হয় এই যাচাই। কমিশনের হিসাবে, ৩৩ লাখের বেশি ভোটারের ক্ষেত্রে দু'ধরনের অসংগতি ধরা পড়েছে। প্রায় ১৩ লাখ ৭৯ হাজার ৭৮৫ জনের আগের তালিকার সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংযোগ বা ম্যাপিং পাওয়া যায়নি। আরও ১৯ লাখ ৩৩ হাজার ১৩৪ জনের ক্ষেত্রে নাম, বয়স এবং পারিবারিক তথ্যের মধ্যে যুক্তিগত অসংগতি চিহ্নিত হয়েছে।
অরবিন্দ কেজরিওয়াল, তার স্ত্রী সুনীতা, ছেলে পুলকিত এবং বাবা- মা গোবিন্দ রাম ও গীতা দেবীর নামও নোটিশ প্রাপকদের তালিকায় রয়েছে। নির্বাচন কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা, কেজরিওয়াল পরিবারের জমা দেওয়া তথ্য আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে মেলানো যায়নি। এই কারণেই তাদের
নথি যাচাইয়ের জন্য ডাকা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তর ক্ষেত্রেও বয়স- সংক্রান্ত অসংগতি ধরা পড়েছিল। তবে পরে আধিকারিকেরা তার নথি যাচাই করে তথ্য সঠিক বলে নিশ্চিত করেছেন। নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে , চূড়ান্ত তালিকায় তার নাম থাকবে।
শুধু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন, সাবেক উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড়, তার স্ত্রী সুদেশ ধনখড়, সাবেক বিচারপতি মদন লোকুর, রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল, তার স্ত্রী প্রমীলা সিব্বল, বিজেপির সাবেক নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী এবং সাবেক দিল্লি বিজেপি সভাপতি বীরেন্দ্র সচদেবের নামও যাচাইয়ের তালিকায় এসেছে। এছাড়াও আরও কয়েকজন শীর্ষ আমলা ও সাংবিধানিক পদে থাকা ব্যক্তির নাম নিয়েও অসংগতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই করা। দিল্লির মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, নোটিশপ্রাপ্ত ভোটারদের প্রয়োজনীয় নথি ও ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আধিকারিকেরা প্রয়োজনে তাদের বাড়িতে গিয়ে নথি যাচাই করতে পারেন। দাবি ও আপত্তি জানানোর শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের কথা আগামী ৪ নভেম্বর।
এদিকে এই প্রক্রিয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। আম আদমি পার্টি কেজরিওয়াল পরিবারের নাম নিয়ে কমিশনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। আবার কপিল সিব্বলও এসআইআর নিয়ে কড়া আপত্তি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে একটি মামলা ২২ সেপ্টেম্বর শুনবে সুপ্রিমকোর্ট। প্রায় ৩৩ লাখ ভোটারকে কেন নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং যুক্তিগত অসংগতি বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে। সেটাও স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে মামলায়। দিল্লির খসড়া তালিকায় মোট ভোটারের সংখ্যা আগের তালিকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ফলে নোটিস পাওয়া ভোটারদের নথি যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত তালিকায় কত নাম থাকে এখন সেদিকেই নজর দিল্লিবাসীর।