ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা বা ইন্টারসেপ্টর কমে আসছে। এতে মহা বিপাকে পড়েছে রিয়াদ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা চেয়েছে তারা।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
কর্মকর্তাদের একজন জানান, হুথি এবং ইরান-সমর্থিত অন্যান্য গোষ্ঠীর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মোকাবিলায় এসব দেশের কাছে ওই অঞ্চলে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েনের অনুরোধ করেছে সৌদি আরব।
সৌদির প্রধান মিত্র ও অস্ত্র সরবরাহকারী যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সঙ্গে ছয় মাসের যুদ্ধে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত কমে যাওয়ায় রিয়াদের অনুরোধ পূরণে সীমাবদ্ধতার মুখে রয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। তবে সৌদি সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এরই মধ্যে বুধবার সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, হুথিরা ইসলামের পবিত্রতম শহর মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে।
সৌদি দাবি করেছে, ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে এবং মক্কাকে তারা ‘রেড লাইন’ হিসেবে বিবেচনা করে। তবে হুথিরা মক্কাকে লক্ষ্য করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইয়েমেন সীমান্ত থেকে মক্কার দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার।
হুথিদের হামলার পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত ইরাকি মিলিশিয়াদের হামলায় সৌদির একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজ ও অবকাঠামোও হুথিদের হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে রয়েছে।
এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব এখন ‘খুব কঠিন অবস্থায়’ রয়েছে। কারণ দেশটিকে সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা তেল স্থাপনাগুলোও সুরক্ষা দিতে হচ্ছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, সৌদি বাহিনীর সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সামরিক পরিকল্পনায় সহায়তা বাড়াতে দেশটির সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি টাস্কফোর্স কাজ করছে। তবে সরাসরি সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার বিষয়ে ওয়াশিংটনের অনাগ্রহের ইঙ্গিতই পাওয়া যাচ্ছে।