ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে ‘আসসালামু আলাইকুম’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ বলাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে নারী আইপিএস কর্মকর্তা বুশরা বানুকে বদলি করা হয়েছে। তবে রাজ্য সরকার বলছে, এটি নিয়মিত বদলি এবং ‘জনস্বার্থে’ তাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বুশরা বানু খড়গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র আড়াই মাসের মাথায় বদলি হলেন। গত ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা রাজ্য সরকারের আদেশে তাকে স্টেট আর্মড পুলিশের চতুর্থ ব্যাটালিয়নের ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করা হয়েছে।
সরকারি আদেশে বদলির কারণ হিসেবে ‘জনস্বার্থের’ কথা বলা হয়েছে। তবে বুশরা বানুর একটি ভিডিও নিয়ে কয়েকটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আপত্তি জানানোর পরপরই তার বদলির আদেশ আসায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সম্প্রতি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার্থীদের জন্য নিজের প্রস্তুতি ও আইপিএস কর্মকর্তা হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন বুশরা বানু। ভিডিওর শুরুতে তিনি ‘আসসালামু আলাইকুম’ বলে দর্শকদের অভিবাদন জানান। পরে তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের (এএমইউ) রেসিডেনশিয়াল কোচিং একাডেমির (আরসিএ) সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।
ভিডিওতে বুশরা বলেন, তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করার উদ্দেশ্য হলো অন্যরা যেন তা থেকে উপকৃত হতে পারেন। এএমইউর সরকারি কোচিং সেন্টারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান সংখ্যালঘু, নারী এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতির শিক্ষার্থীদের উপকার করছে।
আরও শিক্ষার্থীকে এসব কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ’ আরও শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে দেশের সেবা করবেন।
এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডানপন্থী কয়েকটি সংগঠনের অ্যাকাউন্ট থেকে বুশরা বানুর বিরুদ্ধে প্রচার শুরু হয়। তার ভিডিওতে ইসলামি অভিবাদন ও শব্দ ব্যবহারের সমালোচনা করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জনসমক্ষে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা উচিত।
এ নিয়ে একটি হিন্দু সংগঠনের পক্ষ থেকে পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয় বলেও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
বুশরা বানুর বদলির আদেশের পর বিষয়টি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারাও প্রশ্ন তুলেছেন। কংগ্রেসের সংসদ সদস্য ইমরান প্রতাপগড়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে আইপিএস অ্যাসোসিয়েশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তার অভিযোগ, কর্মকর্তাটির পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে রাজ্য সরকার তাকে বদলি করেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, কর্মকর্তাদের বদলি করার অধিকার সরকারের রয়েছে। তবে কোনো কর্মকর্তা অসংসদীয় বা অসাংবিধানিক কথা না বললে এবং নিজের অভ্যাস বা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের কারণে কোনো শব্দ ব্যবহার করলে, সে কারণে তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়।
উত্তর প্রদেশের কনৌজের বাসিন্দা বুশরা বানু আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেছেন। কয়েক বছর উপসাগরীয় অঞ্চলে কাজ করার পর তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। ২০২১ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইপিএসে যোগ দেন।
তাঁর বদলিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তর প্রদেশের পুলিশ কর্মকর্তা অনুজ চৌধুরীর প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। অনুজ চৌধুরীর প্রকাশ্যে নিজের হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা বলার বিষয়টি উল্লেখ করে অনেকে সরকারি কর্মকর্তাদের ধর্মীয় অভিব্যক্তি প্রকাশের ক্ষেত্রে একই ধরনের মানদণ্ড প্রয়োগ করা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলেছেন। সূত্র: এনডিটিভি, বিবিসি বাংলা