Image description

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরীর একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, ‘দুই চোখ নাই অথচ দেখে বক্তব্য দিচ্ছে। জুলাই যো*দ্ধারা কতোকিছুই না দেখালো।’

এমন দাবিতে ভিডিওটি একাধিক ফেসবুক পেজে ছড়ানো হচ্ছে। (,,,,,)

তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলিফ চৌধুরী দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারাননি। এছাড়া, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁর বক্তব্যও সম্পাদনা করে বদলে দেওয়া হয়েছে।

পুরোপুরি অন্ধ নন আলিফ

প্রথম আলোর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সংগঠক আলিফ চৌধুরীর চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। আহত হওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় আনা হয়। পরে তিনি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সেখানে তাঁর বাম চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়। এ সময় তিনি ডান চোখেও ঝাপসা দেখছিলেন।

পরবর্তীতে ১৪ সেপ্টেম্বর কালবেলার অনুসন্ধানে জানা যায়, আলিফ চৌধুরী পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যাওয়া বা তিনি দুই চোখেরই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলার দাবিটি সঠিক নয়। তাঁর বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে গেছে, আর ডান চোখেও আঘাতের প্রভাব রয়েছে।

আলিফ চৌধুরী কালবেলাকে বলেন, ‘দুটি চোখের মধ্যে বাম চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে গেছে এবং ডান চোখে ইফেক্ট আছে। বেশি আলোয় দেখতে এবং দূরের কিছু দেখতে সমস্যা হয়। বর্তমানে আমি জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আছি।’

ভাইরাল ভিডিওতে অসংগতি

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আলিফকে বলতে শোনা যায়, ‘প্রতিহিংসার রাজনীতি তার দুটো চোখ কেড়ে নিয়েছে।’ তবে অনুসন্ধানে আলিফের ওই বক্তব্যের মূল ভিডিও পাওয়া যায়।

মূল ভিডিওতে আলিফ বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে করাপ্টেড রীতিমালা, প্রতিহিংসার যে রাজনীতি, এই প্রতিহিংসার রাজনীতি আমার চোখের আলো কেড়ে নিয়েছে।’ অর্থাৎ, মূল ভিডিওতে আলিফ দুই চোখ হারানোর কথা বলেননি।

শুধু বক্তব্যেই নয়, ভিডিওটির দৃশ্যেও পার্থক্য দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট আলিফের গলায় থাকা পরিচয়পত্রের ফিতার লেখা। মূল ভিডিওতে ফিতায় ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ লেখা দেখা যায়, যা আলিফের সংগঠনের নামের সঙ্গে মিলে।

কিন্তু ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে একই ফিতায় ‘জাতীয় ছাত্রদল’ লেখা দেখা যায়। অর্থাৎ, আইডি কার্ডের ফিতায় থাকা লেখার অংশটি প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে বদলে দেওয়া হয়েছে।

সুতরাং, আলিফের দুই চোখের দৃষ্টি হারানোর দাবি সঠিক নয়। আর ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁর বক্তব্য ও পরিচয়পত্রের ফিতার লেখা বদলে বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।