Image description

ইসরায়েলি বাহিনীর কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পবিত্র আল-আকসা মসজিদ চত্বরে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছে ১৬৯ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর একটি দল। জেরুজালেম গভর্নরেটের বরাতে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

 

প্রতিবেদনে জানানো হয়, মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) কট্টরপন্থি বসতি স্থাপনকারীরা ‘বাব আল-মাঘারিবাহ’ (মরক্কান গেট) দিয়ে আল-আকসায় প্রবেশের পর মসজিদের আঙিনায় তালমুদীয় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে।

 

আল-আকসা চত্বরে অমুসলিমদের পরিদর্শনের অনুমতি থাকলেও ১৯৬৭ সালের ‘স্ট্যাটাস কো’ বা বিদ্যমান পরিস্থিতি বিষয়ক চুক্তি অনুযায়ী সেখানে কোনো ধরনের প্রার্থনা বা ধর্মীয় উপাসনা করার সুযোগ নেই। চুক্তি লঙ্ঘন করেই বসতি স্থাপনকারীরা এই উপাসনা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

আসন্ন ইহুদি নববর্ষ উদযাপনের অজুহাতে কট্টরপন্থি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো আল-আকসা মসজিদে দলে দলে অনুপ্রবেশের জন্য তাদের সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

ওয়াফার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই ইহুদি ছুটির দিনগুলোকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে এবং জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।

 

তিন ফিলিস্তিনির ওপর নিষেধাজ্ঞা

 

এদিকে মঙ্গলবার অধিকৃত জেরুজালেমের তিনজন বাসিন্দাকে পবিত্র আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ইসরায়েলি দখলদাররা। তারা হলেন সিলওয়ান এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আল-রাশ্ক, সুর বাহের এলাকার বাসিন্দা সুহাইব আফানা ও নাসিম খলিল হামাদা। ছয় মাসের জন্য তাদের ওপর এই বিধি আরোপ করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।

 

জেরুজালেম প্রশাসন জানিয়েছে, দখলদার কর্তৃপক্ষ হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ওই তিন নাগরিকের কাছে নিষেধাজ্ঞার আদেশ পাঠিয়েছে। আদেশের সঙ্গে মানচিত্রও যুক্ত করা হয়েছে, তাতে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এই নিষিদ্ধ এলাকার আওতায় পবিত্র আল-আকসা মসজিদের পুরো চত্বর ও প্রবেশপথ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

 

প্রশাসন আরও উল্লেখ করেছে যে, এই পদক্ষেপগুলো জেরুজালেমের বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে দখলদারদের চলমান দমন-পীড়ন ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের অংশ। এর মাধ্যমে আল-আকসা মসজিদে উপস্থিতির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ এবং মানুষের চলাচলের স্বাধীনতা ও ধর্মীয় আচার পালনের অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।