পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট কিংবদন্তি ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ দীর্ঘ ২২ বছর পর আবারও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। ব্রিটিশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার জেমিমা এবার জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন আইরিশ-অস্ট্রেলিয়ান কোটিপতি ব্যবসায়ী ক্যামেরন ও'রিলিকে।
ভারতীয় টেলিভিশন এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার ও রাজনীতিবিদ ইমরান খানের সঙ্গে প্রায় ৯ বছর সংসার করার পর ২০০৪ সালে বিচ্ছেদ ঘটে ৫২ বছর বয়সী এই চলচ্চিত্র নির্মাতার। ইমরান-জেমিমা দম্পতির সুলাইমান ও কাসিম নামে দুই ছেলে রয়েছে। ইমরান খান বর্তমানে রাওয়ালপিন্ডির কারাগারে বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, আর তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দুই ছেলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছেন।
জেমিমার ভাই বেনের স্ত্রী জেমিমা জোন্স ইনস্টাগ্রামে স্বামীর সঙ্গে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে লেখেন, ‘আমার প্রিয় মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জেমিমা ও ক্যামেরনের বিয়ে উদযাপন করছি, কী আনন্দের দিন!’
৬২ বছর বয়সী আইরিশ-অস্ট্রেলিয়ান ব্যবসায়ী ক্যামেরন ও'রিলি এবং জেমিমা গোল্ডস্মিথ গত সপ্তাহের ছুটিতে চমৎকার ও জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে করেছেন। সিনেমা এবং প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রতি দুজনেরই দারুণ আগ্রহের সুবাদেই এই নবদম্পতির প্রথম পরিচয় হয়েছিল।
প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ইন্সটিংক্ট প্রোডাকশনসের প্রতিষ্ঠাতা জেমিমা গোল্ডস্মিথ বেশ কয়েকটি শো ও চলচ্চিত্র রচনা ও প্রযোজনা করেছেন। এর মধ্যে শেখর কাপুর পরিচালিত বহুল প্রশংসিত রোমান্টিক কমেডি ধাঁচের ছবি ‘হোয়াটস লাভ গট টু ডু উইথ ইট?’ অন্যতম।
এছাড়া তিনি ‘দ্য নিউ স্টেটসম্যান’ ও ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-এর মতো বিশ্বখ্যাত সাময়িকীতে সম্পাদনা ও লেখালেখির কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে সবসময়ই সোচ্চার থাকেন।
গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কারাবন্দি সাবেক স্বামীর পক্ষ নিয়ে এবং ছেলেদের প্রচারণার সমর্থনে একটি পোস্ট করেন জেমিমা। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এটি এখন আর স্রেফ পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিষয় নয়। এটি মানবাধিকারের এক চরম জরুরি সংকট।’
তিনি লেখেন, ‘যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তার (ইমরান খান) আজীবনের গভীর সম্পর্ক রয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে জেমিমা বলেন, ‘আমার দুই ছেলে সুলাইমান ও কাসিম যুক্তরাজ্যের নাগরিক। হাজার মাইল দূরে থেকে তাদের বাধ্য করা হচ্ছে বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখতে। তাদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না, ভিসা দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি সরকারি কর্মকর্তারা তাদের প্রকাশ্যে গ্রেপ্তারের হুমকি দিচ্ছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বাবার সঙ্গে তাদের নিয়মিত মুঠোফোনে কথা বলার অধিকারটুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’