Image description

আজ শুভ জন্মাষ্টমী। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের পবিত্র জন্মতিথি। হিন্দুধর্মানুসারে, পৃথিবী থেকে দুরাচারী দুষ্টদের দমন আর সজ্জনদের রক্ষার জন্যই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এই দিনে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন। দ্বাপর যুগের শেষ দিকে এই মহাপুণ্য তিথিতে মথুরা নগরে অত্যাচারী রাজা কংসের কারাগারে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। শ্রীকৃষ্ণের এই আবির্ভাবতিথিকে ভক্তরা শুভ জন্মাষ্টমী হিসেবে উদ্‌যাপন করেন।

রাজধানীসহ সারা দেশের বিভিন্ন মন্দিরে আজ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন ও নামযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। মন্দির ছাড়াও ঘরে ঘরে ভক্তরা উপবাস থেকে জন্মাষ্টমীতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনা করবেন।

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণী দিয়েছেন।

দেশের হিন্দুধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বাণীতে বলেন, শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন পরোপকারী, দক্ষ রাজনীতিক ও সমাজ সংস্কারক। তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন সত্য, ন্যায়, মানবতা ও কল্যাণের প্রতীক হয়ে।

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিশ্বের নানা প্রান্তে ধর্মীয় কারণে মানুষে মানুষে সংঘাত, হানাহানি ও বিভেদ বাড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় সবাইকে ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। শ্রীকৃষ্ণের দর্শন থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি অসাম্প্রদায়িক ও ঐক্যবদ্ধ সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হবে।

সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাণীতে বলেন, শ্রীকৃষ্ণের বার্তা ও শিক্ষা সমাজে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।

কেউ যেন সম্প্রীতির পরিবেশ বিনষ্ট করতে না পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজে শৃঙ্খলা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রত্যেককে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

কর্মসূচি

জন্মাষ্টমী উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় মন্দির শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরীতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ ও মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি। সংবাদ সম্মেলনে তারা জানিয়েছে, জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদ্‌যাপন পরিষদ দেশজুড়ে কর্মসূচি নিয়েছে। মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি দুই দিন অনুষ্ঠানের কর্মসূচি পালন করবে। আজ সকাল আটটায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় শ্রী শ্রী গীতাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। গীতাযজ্ঞ পরিচালনা করবে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শংকর মঠ ও মিশন।

বেলা তিনটায় ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। বেলা তিনটায় পলাশীর মোড়ে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন হবে। এই মিছিল প্রতিবছরের মতো পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। রাতে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শ্রীকৃষ্ণপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তিন দিনের কর্মসূচি নিয়েছে। আজ ইসকনের স্বামীবাগ মন্দিরে সকাল আটটায় শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে তাদের কর্মসূচি শুরু হবে। পরে ধারাবাহিকভাবে কীর্তন মেলা, শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাবের রহস্য, আলোচনা সভা হবে। সন্ধ্যায় সন্ধ্যা আরতি ও শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত হবে। মহাভিষেক অনুষ্ঠিত হবে রাত নয়টায়।

ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনেও জন্মাষ্টমীর অনুষ্ঠান শুরু হবে আজ সকালে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে। পরে ভজন ও প্রসাদ বিতরণ হবে। সন্ধ্যায় হবে শ্রীকৃষ্ণপূজা ও শ্রীশ্যামনাম সংকীর্তন। তারপর হবে শ্রীশ্রী মহামায়ার কাঠামো পূজা।