Image description

আটলান্টিক মহাসাগরে ২৭ দিন ধরে ভেসে থাকা একটি নৌকা থেকে ৪৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নৌকাটিতে থাকা ৮০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। নৌকাটিতে পাঁচজনের লাশও পাওয়া গেছে।

বুধবার স্পেনের সমুদ্র উদ্ধারকারী দল নৌকাটির সন্ধান পায়। এটি গ্রান কানারিয়ার উপকূলীয় শহর আরগুইনেগুইনের প্রায় ৬৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে ভাসছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, নৌকাটি পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া থেকে আগস্টের শুরুর দিকে যাত্রা করেছিল। এতে ১২৭ জন ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে নৌকাটিতে শুরুতে ঠিক কতজন ছিলেন, তা নিশ্চিত করতে পারেনি স্পেনের সমুদ্র উদ্ধারকারী সংস্থা।

স্পেনের মানবাধিকারকর্মী হেলেনা মালেনো গারসন বলেছেন, নৌকাটিতে থাকা ৮৩ জন মারা গেছেন। তিনি স্পেনভিত্তিক দাতব্য সংস্থা কামিনান্দো ফ্রন্তেরাসের প্রতিষ্ঠাতা।

উদ্ধারকারীরা নৌকাটিতে পাওয়া পাঁচটি লাশ তীরে আনতে পারেননি। সমুদ্র ছিল উত্তাল।

উদ্ধারকারী সংস্থা জানায়, ওই এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২০ নট। ঢেউয়ের উচ্চতা ছিল ২ দশমিক ৫ মিটার। এ কারণে লাশগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধার হওয়া ৪৪ জনই সাব-সাহারা আফ্রিকার পুরুষ। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তাদের হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

অন্যদের সমুদ্রপথে গ্রান কানারিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে তারা সেখানে নামেন।

ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ সরকারের প্রধান ফার্নান্দো ক্লাভিহো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘মানুষের প্রাণহানি অব্যাহত থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আটলান্টিক এখনো মৃত্যুফাঁদ হয়ে আছে। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এ ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে পারে না।’

পশ্চিম আফ্রিকা থেকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার আটলান্টিক রুটটি বিশ্বের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অভিবাসনপথগুলোর একটি। প্রতিবছর হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী এই পথে স্পেনের ভূখণ্ডে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন।

দীর্ঘ সমুদ্রপথ, শক্তিশালী স্রোত ও উত্তাল সাগরের কারণে এই যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তারপরও স্পেনে পৌঁছানোর আশায় প্রতিবছর অনেকে এই বিপজ্জনক পথে যাত্রা করেন।