যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান ‘সংঘাতকে’ ‘যুদ্ধ’ বলতে রাজি নন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ‘সংঘাত’ কবে শেষ হবে, তার কোনো সময়সীমাও জানাতে রাজি নন তিনি। তবে সপ্তম মাসে গড়ানো এই সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প প্রশাসন যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, তাঁর বক্তব্যে তা স্পষ্ট হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নানা বিষয়ে কথা বলেন জেডি ভ্যান্স।
কিছুটা বিরতির পর এ সপ্তাহে আবারও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক আলোচনাও বন্ধ রয়েছে।
এ যুদ্ধের কারণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন কমেছে এবং গ্যাসের দাম বেড়েছে। আগামী নভেম্বরে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে লড়াই করতে হচ্ছে রিপাবলিকান প্রার্থীদের।
ভ্যান্স সংবাদ ব্রিফিংয়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান সেখানে নৌ চলাচলে বাধা দিচ্ছে। ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ বড় ধরনের বৈশ্বিক জ্বালানিসংকট এড়াতে সহায়তা করেছে।
‘সংঘাতকে’ ভ্যান্স ‘যুদ্ধ’ বলতে চান না। বরং ভ্যান্স বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক অভিযান শেষ করেছে। যদিও এ সপ্তাহে আবারও ‘সংঘাত’ হয়েছে। ভ্যান্স জানান, তেহরান যাতে বাণিজ্যিক তেল পরিবহনে আর বাধা দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এখন ওয়াশিংটনের লক্ষ্য।
ভ্যান্স বলেন, ‘আমি এটাকে “যুদ্ধ” বলব না। এখন কোনো গোলাগুলি চলছে না। আমি স্বীকার করছি, কিছু জায়গায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে।’
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০ হাজারের বেশি সেনা রয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসন এ অঞ্চলে সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েছে। বর্তমানে অঞ্চলটিতে প্রায় ২০টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। সেখানে কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় সেনাদের মোতায়েন রাখা হয়েছে। ইউরোপ ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সেনা সরিয়ে আনা হয়েছে।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময়সীমা নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হলে ভ্যান্স বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ হলেই এর অবসান ঘটবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানিরা কবে জাহাজে গুলি চালানো বন্ধ করবে? বাস্তবতা হলো, এর উত্তর আমি জানি না।’ তেহরান বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো অব্যাহত রাখলে কোনো আলোচনা হবে না বলেও জানান জেডি ভ্যান্স।
এদিকে বারবার গোলাগুলি এবং যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি না হওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখনো বেশি রয়েছে।
গত মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা চালায়। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের হামলার জবাবে দেশটির উপকূলীয় এলাকায় সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। যুদ্ধ বেড়ে যাওয়ায় তেলের দাম বেড়ে জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।