Image description

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে রুশ ড্রোন হামলায় একটি গোলাবারুদ গুদামে বিস্ফোরণের ঘটনায় ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের ওই হামলায় আশপাশের এলাকাও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রোববারও নিজেদের বিধ্বস্ত বাড়িঘর পরিষ্কার করছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মিলা গ্রামের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী উদ্যোক্তা লিউদমিলা পলিয়ানিচকো জানান, হামলার সময় তিনি ও তার মেয়ে বাড়ির ভেতরে ছিলেন।

তিনি বলেন, একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান তিনি। এরপর হঠাৎ চারদিকে কাচের টুকরো ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েকে নিয়ে বাথরুমে আশ্রয় নেওয়ার সময় তাদের ওপর একটি দেয়াল ভেঙে পড়ে।

তবে প্রাণে বেঁচে যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমরা বেঁচে আছি। এ জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’

পলিয়ানিচকোর বাড়ির উঠানে এখনো পোড়া গোলার খোসা ও ছড়িয়ে থাকা গুলির অংশ পড়ে আছে। তার মেয়ের ঘরও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

তিনি জানান, কাছেই যে একটি গোলাবারুদের গুদাম ছিল, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানতেন না। সেখানে গোলাবারুদ থাকার কথা কখনো ভাবেননি তারা।

শুক্রবারের রুশ ড্রোন হামলায় কিয়েভের কাছে মিলা গ্রামের একটি সামরিক স্থাপনায় থাকা গোলাবারুদের গুদামে আগুন ধরে যায়। সেখানে গোলার খোসা, মাইন, ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ রাখা ছিল বলে জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

হামলার পর গুদামে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

জেলেনস্কি এ ঘটনার জন্য সরকারি অবহেলাকে দায়ী করেছেন। বেসামরিক মানুষের বাড়ির কাছে এভাবে গোলাবারুদ রাখা ‘অপরাধ’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।

এটি গত দুই মাসে কিয়েভ অঞ্চলের কোনো গোলাবারুদ গুদামে দ্বিতীয় হামলা, যার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মৃত্যু হয়।

রোববারও চারজন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছিল। জেলেনস্কি জানান, বেশির ভাগ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও এলাকাটিতে ব্যাপক দূষণ ও ধ্বংসাবশেষ রয়েছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।

এদিকে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। টানা চার দিন ধরে কিয়েভ ও আশপাশের শহরগুলোতে জেটচালিত ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এতে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি এবং ব্যাহত হয়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

জেলেনস্কি বলেন, চলতি সপ্তাহেই রাশিয়া ইউক্রেনে প্রায় ২ হাজার হামলাকারী ড্রোন, ১ হাজার ৬০০টির বেশি বোমা এবং ৩১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

তিনি বলেন, রাশিয়ার প্রতিটি হামলা ও অপরাধের ‘উপযুক্ত জবাব’ দেওয়ার চেষ্টা করছে ইউক্রেন। সেই জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।

সূত্র: রয়টার্স