Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে গত জুলাইয়ের শেষের পর ইরানি ভূখণ্ডে প্রথম হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত লারাক দ্বীপে পরিচালিত এই হামলায় বেশ কয়েকজন হতাহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে তেহরান।

 

রোববার (৩০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে চরম সতর্কবার্তা দেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি।

 

তিনি লেখেন, ‘আমাদের সংকল্প আরেকবার পরীক্ষা করে দেখুন এবং আরও চড়া মূল্য দিন। কঠিন প্রতিশোধ আসছে; দ্রুত পালাও!’

 

এর আগে আরেক পোস্টে ইব্রাহিম আজিজি বলেন, ‘আমাদের দৃঢ় সংকল্পকে আবারও পরীক্ষা করলে তোমাদের অপমানজনক পরাজয়ের মূল্য আরও ভারী হবে।’

তিনি বলেন, ‘নিঃসন্দেহে, কোনো অপরাধই কোনো পর্যায়ে জবাবহীন থাকে না। এর জবাব হবে এমন এক ধ্বংসাত্মক, আরও যন্ত্রণাদায়ক ও শিক্ষণীয় প্রতিক্রিয়া, যা তোমাদের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা পূর্ণ করবে। ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে অপেক্ষা করো!’

 

হরমুজ প্রণালির লারাক দ্বীপে আইআরজিসির দুটি রকেট লঞ্চার লক্ষ্য করে মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলার পরই এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়। হামলার পর পরই এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।

 

আইআরজিসি মার্কিন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এই হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন যোদ্ধা এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। তবে আইআরজিসি হতাহতের সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।

 

এদিকে সংবাদ সংস্থা তাসনিম বলেছে, প্রায় এক ঘণ্টা আগে হরমোজগান প্রদেশের লার্ক দ্বীপের একটি স্থানকে লক্ষ্য করে মার্কিন ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। কিছু প্রাথমিক বেসরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলায় দুজন নিহত ও আরও দুজন আহত হয়েছেন।

 

হামলার তথ্য ইরানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের আগেই এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাদ্যম অ্যাক্সিওস দাবি করে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী লারাক দ্বীপে অবস্থিত ইরানের দুটি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌচলাচল পথে নৌ-মাইনবাহী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের জন্য ওই লঞ্চারগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছিল।