নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা (ফ্লাশ ফ্লাড) ও ভূমিধসে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বন্যার পানির তোড়ে কয়েকটি গ্রাম ভেসে গেছে এবং সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর বিবিসির।
বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোরে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর ঠিক উত্তরে রাসুয়া এলাকায় বন্যাটি আঘাত হানে। অতিরিক্ত তুষার গলে ভোতে কোশি নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় এ বন্যার সৃষ্টি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ দিকে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এ বন্যা ১০৫ জন ভারতীয়সহ বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ভোতে কোশি নদীর আকস্মিক বন্যার পানি নেপালের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত করে।
নেপালি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্তের তিব্বত অংশ থেকে বন্যার পানি নেমে আসে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং নেপালের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে ভেসে গেছে।
নেপালের কেন্দ্রীয় পুলিশের মুখপাত্র ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ অবিনারায়ণ কাফলের বরাত দিয়ে নেপাল নিউজ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নুয়াকোট ও ধাদিং জেলা থেকে অন্তত আটজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক ও ভ্রমণকারী নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি এবং ৯৩ জন নেপালের নাগরিক। বিদেশিদের মধ্যে ১০৫ জন ভারতীয় নাগরিক বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ওই কর্মকর্তা জানান, রাসুয়া জেলায় নেপাল পুলিশের অন্তত ২৬ জন সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীও জানিয়েছে, তাদের সাতজন সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
নেপাল সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত সদস্যদের পাঠিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
এনডিটিভি আরও জানায়, বুধবার নেপালের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভয়াবহ বন্যা আঘাত হানে। এতে সড়ক ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিরূপণে কর্তৃপক্ষ দ্রুত কাজ শুরু করেছে।
নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (NEA) জানিয়েছে, বন্যায় তাদের অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ জলবিদ্যুৎ ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এগুলো হলো—রাসুওয়াগাধি, চিলিমে, ত্রিশূলী-৩এ, ত্রিশূলী-৩বি হাব ২২০ কেভি সাবস্টেশন, ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং দেবীঘাট জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, ‘এই দুর্যোগে কর্তৃপক্ষের বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে... ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নেপালের বেশ কয়েকটি মহাসড়কও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।