Image description

‘শিখা-ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির পর নিরাপত্তা অভিযান শুরু করেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসন। তাতে বন্ধ হচ্ছে একের পর এক হোটেল ও গেস্ট হাউস। মধ্য কলকাতার তুলনামূলক কম খরচের এই হোটেলগুলো বন্ধ হওয়ায় চিকিৎসার প্রয়োজনে কিংবা বেড়াতে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশিরা পড়েছেন বিপাকে।

এই পরিস্থিতিতে ইএম বাইপাসের পাশে মুকুন্দপুরের দিকে নতুন থাকার জায়গা খুঁজতে হচ্ছে বাংলাদেশিদের। ওই এলাকার হোটেল ও গেস্ট হাউসে বুকিং ব্যাপকভাবে বাড়ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। এই সুযোগে কিছু গেস্ট হাউস আবার ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

গত ১৯ আগস্ট নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনে থাকা হোটেল শিখা-ইনে আগুন লেগে মৃত্যু হয় ৯ জনের। নিহতদের মধ্যে সাতজনই বাংলাদেশের নাগরিক। অগ্নিকাণ্ডের পর ভবনটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার অপ্রতুলতা, সরু পথ এবং অন্যান্য বিধিভঙ্গের বিষয় সামনে আসে। এরপরই মধ্য কলকাতার নিউ মার্কেট, ফ্রি স্কুল স্ট্রিট, মার্কুইজ স্ট্রিট, সাডার স্ট্রিট ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় প্রশাসনের অভিযান।

এ পর্যন্ত অন্তত ৫২টি হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। কয়েকটি হোটেল ও গেস্ট হাউসকে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং কলকাতা পৌরসভার বিল্ডিং সংক্রান্ত নিয়ম না মানার অভিযোগে নোটিসও দেওয়া হয়। এরপর থেকে একের পর এক বন্ধ হতে থাকে ওই এলাকার হোটেলগুলো।

 

এই এলাকার হোটেলগুলো বছরের পর বছর বাংলাদেশ থেকে আসা পর্যটক, রোগী ও তাদের পরিবারের কাছে জনপ্রিয় ছিল। কারণ খরচ কম; যাতায়াত, খাবার এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত নানা পরিষেবাও কাছাকাছি।

একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই আবাসনের জায়গাটি কার্যত অচল। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে আসা অনেককে দেখা গেছে ইএম বাইপাসের পাশে মুকুন্দপুরের দিকে নতুন থাকার জায়গা খুঁজতে।

ওই এলাকার ব্যবসায়ী অমিত রায় সোমবার আগামীর সময়কে বললেন, ‘কেন্দ্রীয় কলকাতার হোটেলগুলো বন্ধ হওয়ায় গত কয়েকদিনে রোগী ও তাদের পরিজনদের একটি বড় অংশ নতুন করে মুকুন্দপুরে চলে এসেছেন।’

তাতে মুকুন্দপুরের হোটেল ও গেস্ট হাউসে বুকিং ব্যাপকভাবে বাড়লেও সেখানেও বাংলাদেশিদের স্বস্তি মিলছে না। বেশ কয়েকজন অভিযোগ করেছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে কিছু হোটেল ও গেস্ট হাউস ভাড়া দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা ভাড়ার কক্ষ এখন দেড় থেকে দুই হজারা টাকা চাইছে।

এদিকে গ্রাহক চাহিদা বাড়লেও বাইপাস সংলগ্ন কয়েকটি আবাসনেরও লাইসেন্স ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে বাংলাদেশিদের উৎকণ্ঠা রয়েই যাচ্ছে।