কলকাতার নিউমার্কেট অঞ্চলে হাজারের বেশি আবাসিক হোটেল বা গেস্ট হাউস রয়েছে। অলিগলিতে, ঘুপচিতে এক একটি হোটেলে সস্তায় থাকার ব্যবস্থা। ফলে নেই নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা। একজনের একাধিক হোটেলও রয়েছে। মির্জা গালিব স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, মারকুইজ স্ট্রিট, কলিনস লেন থেকে শুরু করে আনাচেকানাচে নতুন-পুরনো বাড়িতে চলছে এসব হোটেল। কোনো কোনো ভবনে যে একাধিক হোটেল চলছে তা বুধবার চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে শিখা ইন’র অগ্নিকাণ্ড। যে ভবনটিতে আগুন লেগেছে সেই পাঁচতলার বাড়ির প্রতিটি তলায় তিন/চারটি করে হোটেল। ছোট ছোট ঘর, অপরিসর সিঁড়ি। নেই কোনো অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। নেই বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা। লোকদেখানো ফায়ার এলার্ম থাকলেও কাজ করে না। নেই বহির্গমনের জরুরি কোনো পথ। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেছেন, নিয়মনীতির বালাই নেই। এসব হোটেলগুলোতে মানা হয় না পুরসভা, দমকলের নির্দেশিকাও।
আসলে সস্তার এসব হোটেলের নন এসি ঘরের ভাড়া ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এসি ঘর পাওয়া যায় ৮০০ টাকায়। ফলে বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য কলকাতায় আসা বহু মানুষ এসব হোটেলে থাকেন।
নিউমার্কেট থানা ও কলকাতা পৌরসভার একেবারে নাকের ডগায় কীভাবে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে এ ধরনের বাণিজ্যিক কারবার চলছিলÑ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশ্ন উঠেছে, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অভাব থাকা সত্ত্বেও কীভাবে হোটেলগুলো চলছিল? হোটেল চালানোর মতো দমকলের ছাড়পত্র ছিল কি মালিকদের কাছে? ঘুপচি ঘুপচি ঘরে নিরাপত্তা কোথায়? বিজেপি নেতা সন্তোষ পাঠকের অভিযোগ, হোটেলগুলো বিধি মেনে তৈরি হয়নি। হোটেলের ঘরের সংখ্যা বাড়াতে পিলার কেটে জায়গা বাড়ানো হয়েছে, ফলে ওই হোটেল ভবনটি দুর্বল হয়ে পড়েছিল।
সন্তোষের অভিযোগ, এগুলো মূলত আবাসিক ভবন ছিল। সেটাকে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক করা হয়েছে।
মন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলের অভিশাপ বহন করতে হচ্ছে বিজেপি সরকারকে। গত কয়েক বছরে ব্যাঙের ছাতার মতো রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হোটেল গজিয়ে উঠেছে। তোয়াক্কা করা হয়নি কোনো নিয়মের। তারপরও সরকারি লাইসেন্স পেয়ে গেছে। সবমিলিয়ে যা পরিস্থিতি, তাতে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে যে, ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সেই দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছানো হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন দমকল মন্ত্রী।
এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত হোটেল ও গেস্ট হাউসের অডিটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি সরকার। তারাপীঠের হোটেল ও মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের রেশ ধরে পশ্চিমবঙ্গে যত বেসরকারি গেস্ট হাউস এবং হোটেল আছে, সেখানকার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নবান্ন। কারণ তারাপীঠের মতোই কলকাতার হোটেলের অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে রমরমিয়ে ব্যবসা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে যে, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। অথচ পূর্বতন সরকার চোখ বন্ধ করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।