Image description
ফক্স নিউজকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

যুদ্ধের পাঁচ মাসের মাথায় ইরান হামলার মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিল যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের ‘পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ’ এখন আর যুদ্ধের প্রধান ইস্যু নয়। বরং দেশের নাগরিকদের জন্য তেলের দাম কমিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য হোয়াইট হাউজের। বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের মারপ্যাঁচ ভুলে গত বৃহস্পতিবার সে কথাই জানালে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এএফপি।

জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি এদিন ইরান যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টও। তিনি জানিয়েছেন, শিগগির তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন ‘অর্থনৈতিক শাস্তি’ আরোপ করা হবে।

এতদিন পর্যন্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জোর গলায় বলে এসেছেন, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা কেড়ে দেওয়াই এই যুদ্ধের মূল লক্ষ্য। কিন্তু দুই শীর্ষ মার্কিন নেতার গতকালের বক্তব্যে প্রাধান্যের বিষয়টি বদলে গেছে।

ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে তেল পরিবহন নিশ্চিত করাই এখন প্রাধান্যের বিষয়। এটিই আমাদের প্রথম লক্ষ্য— দেশ জুড়ে নাগরিকদে জন্য তেল ও গ্যাসের দাম কমিয়ে আনা। এরপর অবশ্যই দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো, ইরান যেন কখনো পারমাণবিক অস্ত্র না পায়, তা নিশ্চিত করা।’

ইরানকে চাপে রাখতে নতুন অবরোধ: ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে চাপে রাখতে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ‘ইরানকে নজিরবিহীন অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে, যাতে ইরানের বন্দরগুলো দিয়ে কোনো পণ্য ঢুকতে বা বের হতে না পারে।’

তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রয়োজন হলে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত এই অবরোধ চালিয়ে যেতে সক্ষম মার্কিন নৌবাহিনী। জাহাজ ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে এ কার্যক্রম চালানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তবে ইরান তা অস্বীকার করে জানিয়েছে, তেহরানের শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালিটি অবরুদ্ধই থাকবে।

এদিকে চাপের মধ্যে নতুন করে সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ, ইরান তাদের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানির মালিকানাধীন দুটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে গাজা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে ইসরায়েলে। গাজা সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত ইসরায়েলি সেনারা উপত্যকার ভেতরে সশস্ত্র তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক করেছেন বলে জানা গেছে। তাদের আশঙ্কা, হামাস আবারও অস্ত্র সংগ্রহ ও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।