Image description

ভারতে প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার না হলে আবারও দেশজুড়ে আন্দোলন শুরুর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

মঙ্গলবার দলটির মুখপাত্র সৌরভ দাস এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক আদেশকে কেন্দ্র করে সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান মামলাগুলোকে ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা রয়েছে।

এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরসহ বিভিন্ন স্থানে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগে করা বেশকিছু আবেদনের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ার নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে যাদের বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো অপরাধের রেকর্ড নেই, এমন আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়।
যদিও আদালত জানিয়েছে, দিল্লি ও অন্যান্য রাজ্য সরকার ইতোমধ্যে হওয়া মামলার তদন্ত চালিয়ে যেতে পারবে। তবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো জবরদস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। এর আগে অপরাধমূলক কাজের রেকর্ড রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য হবে না।

সৌরভ দাস দাবি করেন, ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকার আন্দোলন প্রত্যাহারের শর্ত হিসেবে সব মামলা প্রত্যাহার এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছিল। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই সিজেপি দেশব্যাপী কর্মসূচি স্থগিত করেছিল।

তার অভিযোগ, সরকারপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে এই নিশ্চয়তার বিষয়টি তুলে ধরেননি। ফলে আদালতের আদেশকে ব্যবহার করে সরকার ও বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলো আন্দোলনকারীদের হয়রানি করতে পারে।

তিনি বলেন, কেন্দ্র চাইলে এখনো মামলা প্রত্যাহার করতে পারে এবং শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সৌরভ দাস বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময়সীমা শেষ হয়েছে। যদি সরকার মামলা প্রত্যাহার, আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং ভবিষ্যতে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ার প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে, তাহলে সিজেপি আবারও দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করবে।

এর আগেও সোমবার দলটির আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা অভিযোগ করেন, সরকারের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা পুরোপুরি লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং শত শত আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২০ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে সিজেপি। আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। ২০ জুলাই ‘পার্লামেন্ট মার্চ’ কর্মসূচিতে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় ১১৮ জনের বেশি পুলিশ সদস্যও আহত হন।

পরে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দুই দফা বৈঠকের পর শনিবার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপরই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় সিজেপি।