হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের ঐচ্ছিক ফি আদায়ের প্রস্তাবে সমর্থন দিয়েছে উপসাগরীয় দেশগুলো। ওমানের তৈরি এই প্রস্তাব ৫ মাস ধরে চলা তেল বাণিজ্যের অচলাবস্থার অবসান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) উপসাগরীয় বিভিন্ন সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদন মতে, ওমানের এই প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক নৌপথকে সচল করা।
ওমানের নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে ইরান একক নিয়ন্ত্রণ পাবে না। পাশাপাশি এই ফি বাধ্যতামূলক করা হবে না, বরং ঐচ্ছিক হবে। এই পদ্ধতি মূলত এশিয়ার মালাক্কা প্রণালির মডেলের মতো তৈরি করা। যেখানে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর সম্মিলিতভাবে নৌ-চলাচল সহজ করা, পরিবেশ রক্ষা এবং উদ্ধার অভিযানের জন্য ঐচ্ছিক অনুদান নিয়ে থাকে।
এই প্রস্তাব নিয়ে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওমান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যৌথ হামলা চালালে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধ করে ইরান।
জুনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির অধীনে প্রণালি কয়েক দিনের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও জুলাইয়ের শুরুতে তা আবারও বন্ধ করে ইরান।
অন্যদিকে, গত ১৩ জুলাই ফক্স নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং সম্ভবত আমরাই পরিচালনা করব। আমরা এই প্রণালির অভিভাবক (গার্ডিয়ান) হতে যাচ্ছি।’
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জনবল দিয়ে এই প্রণালিতে অন্যান্য দেশকে সুরক্ষা দেবে। তবে এই সুরক্ষার বিনিময়ে ধনী ও মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা হবে। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এই নৌরুটে কোনো ধরনের টোল আদায় গ্রহণযোগ্য নয়, যদি না তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে আদায় করা হয়।’
তথ্যসূত্র: রয়টার্স