Image description

Sabina Ahmed (সাবিনা আহমেদ)

 
 
আব্বাস আরাগচি এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা জাভাদ মোগুইয়ের সাথে এক দীর্ঘ ও খোলামেলা সাক্ষাৎকারে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের পেছনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। সাক্ষাৎকারটি ছিল অস্বাভাবিকভাবে সোজাসাপ্টা ও বিস্তারিত।
 
আরাগচি বলেছেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা-ইসরায়েলের যৌথ আক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব নিশ্চিত ছিল যে আক্রমণ আসছে। তারপরও ইরান আমেরিকার সাথে তিন রাউন্ড আলোচনায় অংশ নিয়েছিল। তারা চেয়েছিল, পরে যেন কেউ বলতে না পারে যে “ইরান কূটনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে”।
 
জেনেভায় শেষ রাউন্ডের আলোচনা শেষ হওয়ার পর শুক্রবার আরাগচি নিজেই বুঝতে পেরেছিলেন যে যুদ্ধ এখন অবশ্যম্ভাবী। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি ওয়াশিংটন থেকে ফিরে এসে তাঁকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, সেখানকার পরিবেশ “পুরোপুরি” যুদ্ধের দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
 
সেই সময় ইরান একদিকে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিল, অন্যদিকে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আগে থেকেই আমেরিকা একা আক্রমণ, আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে আক্রমণ, অথবা ইরানের অবকাঠামোতে আঘাত হলে ইরান কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তার পরিকল্পনা লিখিতভাবে তৈরি করে রেখেছিল।
আরাগচি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরানের যুদ্ধ-পরিকল্পনার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর ও সংবেদনশীল অংশটি ছিল — যদি দেশের শীর্ষ নেতৃত্বকে আমেরিকা-ইসরায়েল হত্যা করে। এই ভয়াবহ সম্ভাবনাটি তারা সরাসরি উচ্চারণ করতে চাইত না, তাই এর জন্য একটি বিশেষ কোড নাম দিয়েছিল — “কোড ১১০”।
 
এই পরিকল্পনায় স্পষ্ট বলা ছিল, নেতৃত্বকে টার্গেট করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং পুরো অঞ্চলে বড় আকারের সামরিক জবাব দেওয়া হবে। আরাগচি বলেছেন, কোড ১১০ ছিল তাদের প্রস্তুতির সবচেয়ে গোপন ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
 
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই ইরান গাল্ফের দেশগুলোকে সতর্ক করে দিয়েছিল। তারা জানিয়ে দিয়েছিল — যদি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত করা হয়, তাহলে ইরান সমমানের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করবে। আমেরিকা যদি যুদ্ধে নামে, তাহলে গাল্ফ দেশগুলোর ভূমিতে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটিগুলোতে আঘাত করা হবে। আর যদি ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করা হয়, তাহলে এই অঞ্চলের কেউই তেল রপ্তানি করতে পারবে না।
আক্রমণ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আরাগচি নিজে গাল্ফ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোন করে স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে ইরান তার প্রতিরক্ষা অধিকার ব্যবহার করবে। তিনি বলেছিলেন, “তোমাদের দেশে অবস্থিত আমেরিকান ঘাঁটিগুলোতে ইরান আঘাত করবে।”
 
আমরা আগে অনেকেই ভাবতাম যে আমেরিকা সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে কিছু না জানিয়েই ইরানের ওপর আক্রমণ শুরু করেছে। কিন্তু আরাগচি জানিয়েছেন, কিছু আঞ্চলিক নেতা আগে থেকেই জানতেন বা বিশ্বাস করতেন যে ইরানের ওপর আক্রমণ হবে। একজন আঞ্চলিক নেতা আরাগচিকে আগেই বলেছিলেন — আমেরিকান আক্রমণে ইরানের পারমাণবিক ও তেল স্থাপনা ধ্বংস হয়ে যাবে এবং নেতৃত্বকেও টার্গেট করা হবে, ফলে ইরান জবাব দিতে পারবে না। অর্থাৎ, তাদের ধারণা ছিলো ইরানের সেই শক্তি আর নেতৃত্ব থাকবে না। ফলে তাদের দেশ ইরানিয়ান আক্রমণের শিকার হবে না। তাদের ধারণা ছিলো সেক্ষেত্রে চিন এর ইওরোপ ইরানের বিরুদ্ধে চলে যাবে।
 
কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। ইরান তাদের “মোজাইক ডকট্রিন” ব্যবহার করে সরকার পতন ঠেকিয়েছে এবং কার্যকর পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে গেছে। চিন ইরানের পক্ষেই থেকেছে, বরং নানান ভাবে সাহায্য করছে। ইয়োরোপ এখন পর্যন্ত ইরানকে আক্রমণ করেনি বা আমেরিকার যুদ্ধে যোগ দেয় নি।
 
আরাগচি আরও বলেছেন, তুরস্ক কুর্দিদের মাধ্যমে আমেরিকার সম্ভাব্য গ্রাউন্ড ইনভেশন ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে — তুরস্কের ভূমিকা নিশ্চিতভাবে জানিয়েছেন।
আমেরিকা ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক দেশগুলোকে বলা হয়েছিল — “ইরানের জবাব এক মাস সহ্য করো, তারপর এই গল্প চিরতরে শেষ হয়ে যাবে।” গাল্ফ দেশগুলো সেটা বিশ্বাস করেছিল। কিন্তু এখন যুদ্ধের চতুর্থ মাস চলছে। মাঝে মাত্র দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতি হয়েছিল। এখন আবার যুদ্ধ চলছে।
 
তবে আমেরিকা যেভাবে আক্রমণ করছে, তাতে স্পষ্ট যে তারা এখনো পুরো শক্তি মাঠে নামায়নি। ইরানও না।
 
Look, without a ground invasion America has no realistic chance of neutralizing Iran or securing the Strait of Hormuz. But any ground operation would come at a catastrophic human cost of American soldiers returning home in body bags. That, in turn, would ignite an even fiercer and more determined Iranian retaliation, turning the sands of Iran and the waters of the Strait of Hormuz into a bloody quagmire. In the end, America may be forced to stop. But Iran will not.