Image description
রাতেই আবার জন্তর মন্তরে ককরোচ

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে ঘিরে সোমবার ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক উত্তেজনা। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই আন্দোলনে পুলিশের কড়া পদক্ষেপ, টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জের অভিযোগ ওঠে। সংঘর্ষে শতাধিক আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানা যায়। আহতদের রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতাল ও লেডি হার্ডিঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি বা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আঘাতের মধ্যে ছিল মাথায় গুরুতর চোট, হাড় ভাঙা, চোখে টিয়ার গ্যাসজনিত সমস্যা। পাশাপাশি আটকও করা হয়েছে অনেককে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্র সরকার নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে যথাযথ পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সেই কারণেই শিক্ষামন্ত্রীর অপসারণের দাবিতে আরও জোরদার হয়েছে আন্দোলন।

দিনভর উত্তেজনার পর সন্ধ্যায় দিল্লি জন্তর মন্তরের মূল মঞ্চ ভেঙে দেয় পুলিশ। অনশনরত সোনম ওয়াংচুকের ব্যবহৃত মঞ্চ, ত্রিপল, গদি ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়। তবে সোমবার রাতেই অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে ফের জন্তর মন্তরের অবস্থানস্থল পুনর্দখল করেন আন্দোলনকারীরা। এমনকী আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তারা। সিজেপি বলছে, আহত বিক্ষোভকারীদের জন্য ব্যবস্থা করা হবে চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার।

লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং শতাধিক বিক্ষোভকারীর আহত হওয়ার অভিযোগের মধ্যেও পিছু হটল না ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লি পুলিশের অভিযানে জন্তর মন্তরের আন্দোলন মঞ্চ ভেঙে ফেলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোমবার রাতেই অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা ফের জন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে শুরু করেন অবস্থান। এদিকে ছাত্র-যুবদের উপর পুলিশি বলপ্রয়োগের ঘটনায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের দাবি পেশ করে সিজেপি’র প্রতিনিধিদল। দলের মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানোর দাবিসহ সব বিষয়ই তুলে ধরা হয়েছে মন্ত্রীর সামনে। নাড্ডা বিষয়টি ‘উপযুক্ত স্তরে’ আলোচনার আশ্বাস দিলেও কোন প্রতিশ্রুতি দেননি বলে জানায় সিজেপি।

অন্যদিকে, আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জের প্রতিবাদে নিজের অনশন অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, সংসদ অভিযানের সময় বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশি পদক্ষেপের পর আন্দোলনের দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অনশন ভাঙবেন না তিনি।

আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। তার অভিযোগ, ‘দেশের যুবসমাজকে ব্যর্থ করার পর এখন তাদের উপরই চালানো হচ্ছে দমন-পীড়ন।’

পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, ‘মতপ্রকাশ গণতন্ত্রের অধিকার, তাকে শক্তি দিয়ে দমন করা যায় না।’

উল্লেখ্য, শুধু দিল্লিতেই নয়, কলকাতা, মুম্বাই, আহমেদাবাদ, তিরুবনন্তপুরম, গোয়াসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে সিজেপি ও সোনম ওয়াংচুকের সমর্থনে ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ। আহমেদাবাদে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়। কেরলে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।