শিক্ষায় দুর্নীতি এবং নিটের প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকে ধাপে ধাপে তেলাপোকা জনতা পার্টি এগিয়ে নিয়ে চলেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের প্রতি প্রত্যক্ষভাবে না হলেও পরোক্ষভাবে সমর্থন জানিয়েছে। এগিয়ে এসে পাশে দাঁড়িয়েছেন বিশিষ্টজনরাও। এই আবহে তেলাপোকা জনতা পার্টি সংসদ অভিযান কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
সোমবার থেকেই সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হয়েছে। সংসদ ভবনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দলের সাংসদেরা। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীসহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যরাও। এই পরিস্থিতিতে সিজেপি’র আহ্বানে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন। প্রায় পাঁচ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা নামিয়েও বিক্ষোভকারীদের দমানো যায়নি। এমন কি মিছিল আটকাতে লাঠি, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার ও ব্যারিকেড তৈরি করেও তেলাপোকা জনতা পার্টি (সিজেপি)’র সংসদ অভিযান রুখতে পারেনি পুলিশ। পুলিশের বাধা কাটিয়েই সোমবার দুপুরে সংসদ ভবনের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল বিক্ষোভকারীরা। বিক্ষোভকারীদের মিছিল এগিয়ে আসতেই নিরাপত্তার কারণে সংসদের প্রধান ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।
সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে দমনমূলক আচরণ করেছে পুলিশ। নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন তারা। সেই মতো সকালে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে মিছিল বের হয়েছিল। পুলিশের অভিযোগ- এই কর্মসূচির জন্য কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। বৃষ্টির মধ্যে বর্ষাতি পরেই মিছিলে শামিল হন অনেকে। তাদের হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং ভারতের সংবিধান। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রায় ২০ হাজার মানুষ (যাদের অধিকাংশই ছাত্র-যুব) সোমবারের কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন।
রাজপথে তেলাপোকা জনতা পার্টির সমর্থকরা যখন অভিযান করছেন তখন সংসদের দুই কক্ষে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আলোচনার দাবি করেন বিরোধীরা। সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন তারা। নিট প্রশ্নফাঁস এবং অনুদান চুরি নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান বিরোধী দলের নেতারা। এরপর হই-হল্লা শুরু হলে এদিনের মতো অধিবেশন মুলতবি করেন স্পিকার। পরে অবশ্য বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।
সিজেপি’র দাবির সমর্থনে লাদাখের সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেছিলেন। শনিবার তাকে জোর করে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সোমবার সেখান থেকেই তিনি সংসদ অভিযানে যোগ দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
এদিকে, তেলাপোকা জনতা পার্টির (সিজেপি) সঙ্গে অবশেষে কথা বলতে রাজি হয়েছে সরকার। সোমবার সিজেপি’র সংসদ ভবন অভিযানের মধ্যেই সরকারের তরফে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে দাবি। সিজেপি’র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং অন্যতম মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নড্ডার সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবিপত্রও জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন তিনি বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ মহলে কথা বলবেন।