প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সোমবার ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এসে আবেগঘন এক মুহূর্তের সাক্ষী হন যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। সরকারি বাসভবনে পৌঁছেই তিনি তার মা আইলিন বার্নহ্যামকে জড়িয়ে ধরেন। সেই দৃশ্য মুহূর্তেই আলোচনায় আসে।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে দ্য টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, তার বাবা রয় বার্নহ্যাম আলঝেইমার রোগে আক্রান্ত। ফলে তিনি জানেনই না, তার ছেলে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহের শেষে মা ও দুই ভাইকে নিয়ে বাবার কেয়ার হোমে দেখা করতে গিয়েছিলেন বার্নহ্যাম। তিনি বলেছেন, ‘এটি আমাদের পুরো পরিবারের অর্জন। বাবা হয়তো বুঝতে পারছেন না, তবুও আমার মনে হয় আমরা যেন একসঙ্গেই এই পথচলা সম্পন্ন করেছি।’ বিবিসি ,টেলিগ্রাফ।
এদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রীর সামনে শুরুতেই বিভিন্ন অঞ্চলের নানা দাবি-দাওয়া উঠে আসছে। উত্তর আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতারা তার সঙ্গে প্রথম বৈঠকেই অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি তুলতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। তাদের দাবি, বর্তমান অর্থায়নে প্রয়োজনীয় জনসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। অর্থবছর শুরু হওয়ার তিন মাস পেরিয়ে গেলেও ক্ষমতাসীন জোট এখনো বাজেট চূড়ান্ত করতে পারেনি। যদিও ওয়েস্টমিনস্টারের দাবি, বেলফাস্ট প্রশাসনের জন্য এবারই সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উত্তর আয়ারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় দল সিন ফেইনের নেত্রী ও ফার্স্ট মিনিস্টার মিশেল ও’নিল বার্নহ্যামের কাছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে আইরিশ একীকরণ নিয়ে গণভোট আয়োজনের দাবি জানাবেন। অন্যদিকে জোটসঙ্গী ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) নেতা গ্যাভিন রবিনসন চাইবেন, ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাণিজ্য বাধা কমিয়ে উত্তর আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের বাকি অংশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা হোক।
ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টার রুন অ্যাপ আইওরওয়ার্থ নতুন প্রধানমন্ত্রীর নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, বার্নহ্যামের নেতৃত্বে ওয়েলস ও যুক্তরাজ্য সরকারের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ‘অ্যান্ডি বার্নহ্যামও বিশ্বাস করেন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমি আশা করি, ওয়েস্টমিনস্টার থেকে আরও ক্ষমতা ওয়েলসের জাতীয় পার্লামেন্টের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে আমরা একই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করতে পারব।’
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই ব্যক্তিগত আবেগ, পারিবারিক অনুভূতি এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের রাজনৈতিক প্রত্যাশা, সব মিলিয়ে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সামনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।