ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম জমকালো ও হাইভোল্টেজ আসর ফিফা বিশ্বকাপের চলতি আসরের ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামকে। আজ রবিবার (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) চিরপ্রত্যাশিত এই ফাইনাল মহারণ সশরীরে গ্যালারিতে বসে উপভোগ করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্টের এই আগমন এবং বৈশ্বিক এই মহোৎসবকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসে সর্ববৃহৎ নিরাপত্তা অভিযানে রূপ নিতে যাচ্ছে। খবর টেলিগ্রাফের
হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এই মেগা ফাইনালকে ‘লেভেল ১ স্পেশাল ইভেন্ট’ (Level 1 Special Assessment) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ স্তরের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এই নিরাপত্তার ব্যাপকতা সম্পর্কে হোয়াইট হাউসের ফিফা টাস্ক ফোর্সের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানান, বিশ্বকাপের ফাইনালের এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান কিংবা কংগ্রেসের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ (State of the Union) ভাষণের সমতুল্য।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ম্যাচ চলাকালীন স্টেডিয়ামের ওপরের আকাশসীমাকে সম্পূর্ণ ‘নো ফ্লাই জোন’ (সংরক্ষিত আকাশসীমা) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আকাশে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এফ-১৬ (F-16) ফাইটার জেট। ইতোমধ্যে উত্তর আমেরিকার অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড জানিয়েছে, ফাইনালকে কেন্দ্র করে জারি করা বিমান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করায় একটি ছোট বেসামরিক উড়োজাহাজকে আকাশে বাধা দিয়েছে এবং সেটিকে সংরক্ষিত আকাশসীমার বাইরে সরিয়ে দিয়েছে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান।
কেবল আকাশপথই নয়, মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ছাদে মোতায়েন করা হয়েছে সামরিক স্নাইপারদের। মাঠে ও মাঠের বাইরে নিয়োজিত থাকছেন ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর কয়েক হাজার বিশেষ এজেন্ট।
গত এপ্রিল মাসে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে সমস্ত নিরাপত্তা বলয় ভেঙে এক বন্দুকধারী প্রবেশ করার একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। জনাকীর্ণ স্টেডিয়ামে প্রেসিডেন্টের উপস্থিতির সময় যেন সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, মূলত সেটি মাথায় রেখেই গত দুই বছর ধরে ফেডারেল এজেন্ট, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এই কঠোর ছক তৈরি করেছে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, এই বিশ্বকাপের আসরটি আমেরিকার ইতিহাসে যেমন সবচেয়ে বেশি দেখা আয়োজন, তেমনি এটিই সবচেয়ে নিরাপদ।
এদিকে, এই কড়া সুরক্ষার কারণে দর্শকদের স্টেডিয়ামে প্রবেশে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে আগেভাগেই সতর্ক করেছে হোয়াইট হাউস। অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি আশা প্রকাশ করে বলেন, টুর্নামেন্টের আগের ১০৩টি ম্যাচ যেভাবে নির্বিঘ্নে শেষ হয়েছে, শেষ ম্যাচটিতেও সেই ধারা বজায় থাকবে। আর এই সফল আয়োজনের সমাপনী হিসেবে ম্যাচ শেষে ফিফা সভাপতি জিয়ানি ইনফান্তিনোর সঙ্গে যৌথভাবে বিশ্বজয়ী দলের অধিনায়কের হাতে সোনালী ট্রফিটি তুলে দেবেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।