ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ নিয়ে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মোট ১৬ সেনার প্রাণহানির তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। শনিবার (১৯ জুলাই) এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। খবর বার্তা সংস্থা এপি।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর মতে, এই প্রাণহানি দেখিয়ে দিয়েছে যে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধবিমাননির্ভর আধুনিক সংঘাতেও মার্কিন সেনারা বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন, যদিও এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি স্থল অভিযান চালাতে হয়নি।
শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে বাধা দিতেই এই সামরিক অভিযান প্রয়োজন। তবে জর্ডানে সাম্প্রতিক হামলায় মার্কিন সেনা নিহতের ঘটনায় তিনি শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পৃথক মন্তব্য করেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কেবল মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনা নিহত হন। তারা আইওয়াভিত্তিক একটি সরবরাহ ও রসদ ইউনিটে কর্মরত ছিলেন।
এরপর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ১ মার্চ ইরানের হামলায় আহত এক সেনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। একই মাসে ইরাকে মার্কিন অভিযানে সহায়তাকারী একটি কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হলে আরও ছয় সেনা নিহত হন।
এ ছাড়া আরব সাগরে একটি সামরিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নৌবাহিনীর একজন পাইলটের মৃত্যু হয়। নৌবাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটির সঙ্গে শত্রুপক্ষের হামলার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সবশেষে গত শনিবার জর্ডানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় আরও দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। একই ঘটনায় একজন সেনা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নিহত সেনাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার আগে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না।
অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, গত তিন সপ্তাহে মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গত শুক্রবার একটি সেতুতে হামলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সংঘাতের প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে কর্মরত বিদেশি শ্রমিক, জাহাজের নাবিকসহ বিভিন্ন দেশের বেসামরিক মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন।
শীর্ষনিউজ