ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নৌ অবরোধ কার্যকর করতে মধ্যপ্রাচ্যে ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ ও শতাধিক সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার পর ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিকেল ৪টা থেকে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকাজুড়ে এই অবরোধ কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ ও বিমানবাহিনী পূর্ণ প্রস্তুতিতে অভিযান পরিচালনা করছে। সেন্টকমের ভাষ্য, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়।
পরবর্তীতে মার্চে ইরানের পদক্ষেপের জেরে এপ্রিল মাসে দেশটির বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ জারি করে ওয়াশিংটন। এতে ইরানের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজের চলাচল ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। পরে দুই দেশের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তী সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে জুন মাসে সেই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
তবে সমঝোতার পরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমেনি। হামলা-পাল্টা হামলা এবং চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ অব্যাহত থাকায় গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এরপর চলতি সপ্তাহের শুরুতে আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এদিকে টানা চতুর্থ রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান আলোচনায় না ফিরলে আগামী সপ্তাহে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোও হামলার লক্ষ্য হতে পারে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই নতুন সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বুধবার ভোরে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা জর্ডানের আজরাক ঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন অবস্থানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
এ ছাড়া ইসলামি বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি) দাবি করেছে, বাহরাইন ও কুয়েতে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সংরক্ষণাগার লক্ষ্য করেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
শীর্ষনিউজ