গতকাল কাতারের আমীর হামাদ বিন খলিফা আল ছানী ইন্তেকাল করেছেন। আরব লোকেরা এমনিতেও বিলাসী ও ভোগবাদী হয়ে থাকে। বিলাসিতার দিক থেকে তাদের কোনো তুলনা হয় না। এই বাদশাহও সেই বিলাসীদের মধ্যেই একজন ছিলেন, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর মধ্যে একটি বড় গুণ ছিলো; তা হলো—তিনি মুসলিম উম্মাহর অমূল্য রত্ন ড. আল্লামাহ্ ইউসুফ আল-কারাদ্বাভী (রাহি.)-কে নিজের দেশে আশ্রয় দিয়েছিলেন, তাঁর চিন্তাধারার মুক্ত প্রচার-প্রসারের সুযোগ করে দিয়েছিলেন, ফিলিস্তিনি স্বার্থের (কজের) জোরালো সমর্থন করেছিলেন এবং হামাস নেতাদের নিজের দেশে আশ্রয় দিয়েছিলেন—যারা এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। তিনি তাঁদের আদর্শের জোরদার ওকালতি করেছিলেন। আল জাযীরাহ্ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলমানদের কণ্ঠস্বরে পরিণত হয়েছিলেন, ইত্যাদি।
আসলে আল্লাহ তাআলা আরবদের প্রচুর সম্পদ দিয়েছেন। তাছাড়া তাদের পক্ষে সারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানও রয়েছে। তারা ইচ্ছা করলেই ইসলাম এবং মুসলমানদের কল্যাণে অনেক বড় বড় অবদান রাখতে পারতেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বর্তমানের শাসকদের মধ্যে কয়জন আর তা করছেন? এখনকার শাসকেরা তাদের বাপ-দাদারা যা করে গেছেন, তার ২৫%-ও করছেন না। তারা শুধু পশ্চিমাদের অনুকরণ এবং তাবেদারীতে ব্যস্ত বললে অতিরঞ্জিত হবে না।
এখন তো শুধু তাদের দেশে গরিব রাষ্ট্রের মুসলমানরা খেটে খাওয়া দিনমজুর হিসেবে কাজ করে রুজিরুটির ব্যবস্থা করছে। তারা মনে করছে এটিই যথেষ্ট। অথচ আরব বিশ্বে শুধু মুসলমানরাই সুবিধা পাচ্ছে তা নয়; বরং ভারত উপমহাদেশের হিন্দুরা এবং পশ্চিমা দেশের অমুসলিমরাও সেখানে অবস্থান করছে। তারাও কাজ করছে, এর ফাঁকে সেখানকার পরিবেশ নষ্ট করছে। অর্থাৎ নিজেদের কৃষ্টি-কালচার ছড়িয়ে দিচ্ছে।
অথচ আরব শাসকরা চাইলে অমুসলিমদের এই অবস্থানের সুযোগ ও প্রভাবকে তারা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা নির্যাতিত মুসলমানদের অধিকার রক্ষায় ব্যবহার করতেপারতেন, এই পথ ধরে ইসলাম ও মুসলমানদের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব হতো। কিন্তু এই কাজ আজ কয়জন শাসক করছেন? তবে খালীফাহ্ হামাদ বিন খালীফাহ্ আল ছানী তা করে দেখিয়েছেন।
তাই আল্লাহর কাছে তাঁর এই বিশেষ অবদানের জন্য দোয়া করছি, তিনি যেন তাঁকে এর উত্তম প্রতিদান ও বিনিময় দান করেন। আল্লাহ তাআলা মরহুমের গুনাহখাতা ক্ষমা করুন এবং তাঁর নেক আমলগুলো কাবুল করুন।
