Image description

বরফের সাম্রাজ্য জয় করে আর্কটিকের গহীনে পৌঁছে গেল রাশিয়ার সর্বাধুনিক পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার ‘ইয়াকুতিয়া’। দুটি কার্গো জাহাজের এই বহরটি উত্তর-পূর্ব রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের চুকোতকা এলাকায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, নির্মাণ সরঞ্জাম এবং কনটেইনার পৌছে দিয়েছে। এ সময় বহরটিকে নর্থ সী-রুটের পুরু বরফে আচ্ছাদিত কঠিন জলপথ অতিক্রম করতে হয়।

আজ শনিবার রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ব প্রতিষ্টান রসাটমের বাংলাদেশের পিআর এজেন্সি ট্রিউন গ্রুপ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। ইয়াকুতিয়া, রসাটমের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এফএসইউই এটমফ্লোট এর অধীনে পরিচালিত একটি আইসব্রেকার।

পশ্চিম থেকে পূর্বমুখী এই যাত্রায় জাহাজ বহরটি ১২ দিনে প্রায় ১,৭০০ নটিক্যাল মাইল পথ অতিক্রম করে। পুরো যাত্রার সবচেয়ে কঠিন অংশগুলোর একটি ছিল কারা সাগরের পূর্বাঞ্চল, যেখানে জুন মাসের শেষ দিকে প্রবল উত্তর-পশ্চিমা বাতাসের কারণে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ঘন বরফের স্তর সৃষ্টি এবং বিভিন্ন স্থানে তীব্র বরফচাপ তৈরি হয়।

এছাড়া, পূর্ব সাইবেরিয়ান সাগরে নিউ সাইবেরিয়ান দ্বীপপুঞ্জের উত্তরে জমাট বরফের কারণে প্রচলিত নৌপথ বন্ধ হয়ে যায়। এমন অবস্থায়, বরফ কেটে জাহাজ বহর এগিয়ে নেবার জন্য প্রয়োজন হয় আইসব্রেকারের।

এফএসইউই অ্যাটমফ্লটের মহাপরিচালক ইয়াকভ আন্তোনভ বলেছেন, ‘চুকোতকার বাসিন্দাদের সময়মতো খাদ্য ও অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় পণ্য এবং নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নির্মাণসামগ্রী পৌছে দেয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আমাদের পূর্বনির্ধারিত রুটে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। তবে পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার- ইয়াকুতিয়ার দক্ষ নাবিকদল এবং ফেডারেল স্টেট বাজেটারি ইনস্টিটিউশন- গ্লাভসেভমরপুত এর মেরিন অপারেশনস সদর দপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের ফলে জাহাজ বহরটি নিরাপদে এবং সময়মতো গন্তব্যে পৌছাতে সক্ষম হয়েছে।’

উত্তর সাগরীয় রুট হলো রাশিয়ার উত্তর উপকূল ঘেষে আর্কটিক মহাসাগর অতিক্রমকারী ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলকে সংযুক্ত করা সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ। প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রুটটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপরিবহন করিডোর হিসেবে বিবেচিত।

এই রুটে রাশিয়ার আর্কটিক অঞ্চলের ছয়টি প্রধান সমুদ্রবন্দর রয়েছে: সাবেত্তা, ডিকসন, দুদিনকা, খাতাঙ্গা, টিকসি এবং পেভেক। প্রচলিত দক্ষিণ নৌপথের তুলনায় উত্তর সাগরীয় রুট এশিয়া ও ইউরোপের অনেক বন্দরের মধ্যকার যাত্রাপথ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।

২০২৫ সালে রসাটমকে রাশিয়ার নর্দার্ন ডেলিভারি সিস্টেমের একমাত্র সামুদ্রিক অপারেটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।