যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া চরম উত্তেজনা প্রশমন এবং স্থগিত হয়ে পড়া পারমাণবিক চুক্তি বিষয়ক আলোচনা পুনরুজ্জীবিত করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে কাতার, পাকিস্তানসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারী দেশ। মধ্যস্থতাকারী দেশের দুটি সূত্র এবং একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ বলে ঘোষণা দেন এবং দুই দফায় বিমান হামলার নির্দেশ জারি করেন। তবে এরপরও তার মূল মনোযোগ এখন হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার দিকে এবং তিনি এখনও ইরানের সঙ্গে পুরোদমে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এড়াতে চান। আর এ কারণেই এই মধ্যস্থতা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে।
মধ্যস্থতাকারীরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আগের দফার আলোচনাগুলোতে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে দুপক্ষই বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছিল। তাই তারা যেকোনও মূল্যে এই সমঝোতা স্মারকটিকে পুরোপুরি ভেস্তে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে চান।
মধ্যস্থতায় জড়িত একটি দেশের আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক ইরানি হামলাগুলো মূলত ইরান সরকারের ভেতরের এমন কিছু পক্ষের উসকানিতে হয়েছে, যারা এই সমঝোতা স্মারকের বিরোধী এবং এটি নস্যাৎ করতে চায়।
পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টায় বুধবার কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর এবং সৌদি আরবের শীর্ষ কর্মকর্তারা মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনালাপ করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তিনি পাকিস্তানের সামরিক কমান্ডার ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা এবং আক্রমণাত্মক বক্তব্য সমঝোতা স্মারকের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত একটি আঞ্চলিক সূত্র জানায়, উভয়পক্ষকে প্রথমে উত্তেজনা কমাতে রাজি করানো এবং এরপর কারিগরি দলগুলোর মধ্যে পরবর্তী দফার আলোচনার তারিখ নির্ধারণের জন্য বর্তমানে ব্যাপক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে।
টানা দুই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ব্যাপক পাল্টাপাল্টি গোলাগুলির পর বৃহস্পতিবার পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত ছিল। ইরানের কিছু গণমাধ্যমে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশ পেলেও মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী নতুন কোনও হামলা চালায়নি। একজন মার্কিন কর্মকর্তা একে কূটনৈতিক ও উত্তেজনা প্রশমন প্রচেষ্টারই সুফল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার বিকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে এই উত্তেজনা এবং পরবর্তী করণীয় নিয়ে তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছেন। বৈঠকের পর একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন পারমাণবিক চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য এখনও একটি সমাধান খোঁজার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তবে ওই মার্কিন কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার কোনও রকম দ্ব্যর্থতা ছাড়াই তার মনোভাব স্পষ্ট করে দিয়েছেন। নিরীহ বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর ওপর ইরানের এই হামলাগুলো মূলত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। এ সমঝোতা স্মারকটি প্রতিশ্রুতির কার্যকারিতার ওপর নির্ভরশীল এবং ইরানের এই পদক্ষেপগুলো একটি অগ্রহণযোগ্য মাত্রার ব্যর্থতা।
সূত্র: অ্যাক্সিওস