Image description

পুকুর-খাল-বিলের আগাছা কচুরিপানাই এখন বাগেরহাটের একটি পরিবারের জীবিকার প্রধান অবলম্বন। খাল থেকে কচুরিপানা সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত ও শুকিয়ে ঢাকায় পাঠাচ্ছেন তারা। সেই কাঁচামাল দিয়ে তৈরি হচ্ছে গার্ডেন পট, চিকেন বাস্কেট, ডগ বাস্কেট, জুতা, ফুলদানি, ফ্লোর ম্যাট, পাপোশ, টিস্যু বক্সসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পণ্য; যার একটি অংশ রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। ফলে একদিকে জলাশয় পরিষ্কার হচ্ছে, অন্যদিকে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান ও পরিবেশবান্ধব শিল্পের সম্ভাবনা।

বাগেরহাট শহরের খানজাহান পল্লীর গোবদিয়া এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লেকপাড়সংলগ্ন একটি খাল থেকে প্রতিদিন সংগ্রহ করা হচ্ছে কচুরিপানা। এ কাজে নিয়োজিত শ্রমিক ইমরান শেখ বললেন, ‘প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত দুজন শ্রমিক মিলে খাল থেকে কচুরিপানা তুলি। এ কাজের জন্য প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০ টাকা মজুরি পাই। সংগ্রহ করা কচুরিপানা ঢাকায় প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়।’

উদ্যোক্তা সুমি বেগম বলেছেন, ‘স্বামী, ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে এ কাজ করছি। গাজীপুরের একটি প্রতিষ্ঠান প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে কাঁচামাল কিনছে। এতে আয় বাড়বে বলে আশা করছি।’

সুমির স্বামী আবদুল্লাহ শেখ বললেন, ‘আগে একটি ছোট দোকান ছিল। ব্যবসা ভালো না চলায় সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ইউটিউবে কচুরিপানা দিয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের কাঁচামাল তৈরির ভিডিও দেখে আগ্রহী হই। পরিচিত একজনের সহযোগিতায় প্রায় তিন মাস আগে এ উদ্যোগ শুরু করি। প্রথমদিকে অনেকেই বিষয়টি নিয়ে হাসাহাসি করতেন। কিন্তু এখন এ কাজই পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস।’

এ বিষয়ে বাগেরহাট বিসিক শিল্পনগরীর উপব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সোহাগ হোসেন বলেছেন, কচুরিপানা কাজে লাগিয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরির উদ্যোগ অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। একসময় যে উদ্ভিদকে জলাশয়ের সমস্যা হিসেবে দেখা হতো, সেটিই এখন অর্থনৈতিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে আরও মানুষ এ খাতে এগিয়ে এলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, জলাশয় পরিষ্কার থাকবে, পরিবেশ উপকৃত হবে এবং রপ্তানি আয়ের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। বর্তমানে কচুরিপানা শুধু একটি জলজ উদ্ভিদ নয়, গ্রামীণ অর্থনীতির জন্যও এটি একটি সম্ভাবনাময় কাঁচামাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।