চলতি বছরের ফেব্রুারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে ইসরায়েলকে রীতিমতো নাস্তানাবুদ হতে হয়েছে। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কৌশলের কাছে নিজেদের অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার চরম দুর্বলতা প্রকাশ্যে এসেছে। যেটি কি না পরবর্তীতে বিশ্বের কাছে সামরিক সরঞ্জামের সমৃদ্ধ ও উন্নত প্রযুক্তির খ্যাতি ম্লান করেছে। এই ক্ষত এখন পর্যন্ত অপূরণীয় থেকে ইসরায়েলের।
সামরিক অস্ত্রশস্ত্রের ভান্ডারে ‘পরাজয়ের’ কালিমা লেপন হতে না হতেই ইসরায়েলের নতুন ‘দুর্বলতা’ প্রকাশে এনেছে ইরান। ফলে দীর্ঘদিনের উন্নত প্রযুক্তি গৌরবের খ্যাতিও হুমকিতে পড়েছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে গড়ে ওঠা জায়নবাদী দেশটির সরকার ও তথ্যপ্রযক্তি খাতকে টার্গেট করছে তেহরান। এসব খাতকে লক্ষ্য করে নতুন ধরনের সাইবার হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরানসংশ্লিষ্ট একটি হ্যাকার গোষ্ঠী।
সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করেছে ইসরায়েলি সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্ট রিসার্চ। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘ক্যাভার্ন ম্যান্টিকোর’ নামে পরিচিত গোষ্ঠীটি ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের (এমওআইএস) সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শুরু থেকে গোষ্ঠীটির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে আসছেন গবেষকরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গোষ্ঠীটি এমন উন্নত ডিজিটাল সরঞ্জাম তৈরি করেছে, যা দূর থেকে হ্যাক হওয়া কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম। একই সঙ্গে এসব সরঞ্জাম নিরাপত্তা সফটওয়্যারের নজর এড়িয়ে কাজ করতে পারে, ফলে হামলার কার্যক্রম শনাক্ত ও বিশ্লেষণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
গবেষকদের ভাষ্য, হামলাকারীরা প্রথমে লক্ষ্যবস্তু নেটওয়ার্কে গোপনে বিশেষ প্রোগ্রাম ইনস্টল করে। এরপর সেগুলোর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ, নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশে প্রবেশ এবং ডেটা স্থানান্তরের মতো কাজ চালানো হয়।
আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রমণকারীরা অনেক ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে আগে থেকেই ব্যবহৃত বৈধ সফটওয়্যার ও আইটি ব্যবস্থাপনা টুল ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ করে। এতে প্রাথমিক পর্যায়ে সন্দেহ বা নিরাপত্তা সতর্কবার্তা পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
চেক পয়েন্টের গবেষকদের মতে, হামলার একটি প্রচলিত কৌশল হলো রিমোট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যারের আপডেট প্রক্রিয়াকে কাজে লাগানো। আইটি সাপোর্ট টিমের ব্যবহৃত এসব টুলের মাধ্যমে নেটওয়ার্কে প্রবেশের পর হামলাকারীরা ধীরে ধীরে নিজেদের প্রবেশাধিকার বাড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে তারা এক আইটি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্ক থেকে অন্যটিতে ছড়িয়ে পড়ে, এরপর সরকারি বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সাইবার অঙ্গনে পাল্টাপাল্টি আক্রমণ চলছে। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের সামরিক সংঘাতের পর সেই সাইবার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে দেশটি হাজার হাজার সাইবার হামলার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হামলার পেছনে ইরান-সমর্থিত হ্যাকার গোষ্ঠীগুলোর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য সাইবার হামলার শঙ্কায় জরুরি সতর্কতা অবলম্বনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়েছে চেক পয়েন্ট রিসার্চ।
সূত্র: রোয়া নিউজ, দ্য জেরুজালেম পোস্ট