Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যখন ইরানের ওপর একযোগে বিমান হামলা শুরু করে, তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরানের শাসনতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে সেখানে নতুন সরকার প্রতিষ্ঠা করা। তবে ইরানের শাসন ব্যবস্থায় যে একটুও পরিবর্তন হয়নি, যুদ্ধ শুরুর চার মাস পর ঘটা করে আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজার মাধ্যমে সেই বার্তাই দিলো তেহরান।

এমনটাই মত দিলেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফেলো মোহাম্মদ এসলামি। তিনি বলেছেন, ‘সাবেক সর্বোচ্চ নেতা খামেনির জন্য চলমান শেষযাত্রা অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য হলো— ইরানের ইতিহাসে খামেনির স্থানকে স্পষ্ট করা। পাশাপাশি বিশ্বের সামনে ইরানের শাসনব্যবস্থার ধারাবাহিকতার একটি চিত্র তুলে ধরা।’

‘সর্বোচ্চ নেতা… ইরানের ইতিহাসে সেইসব নেতাদের একজন, যারা যুদ্ধ চলাকালীন তাদের প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়েছেন। তিনি এমন নেতা ছিলেন না, যিনি শুধু বসে বসে অন্যদের নির্দেশ দিতেন। তিনি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্মুখভাগে ছিলেন।’

‘এই বার্তাটাই ইরান সরকার বিশ্বকে দিতে চেয়েছে। তারা বলতে চায়, এই অঞ্চলের প্রতি তার (আয়াতুল্লাহ খামেনির) দৃষ্টিভঙ্গি, সরকারের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি তার পরেও অব্যাহত থাকবে’, যোগ করেন তিনি।

দেশটির বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রসঙ্গে এসলামি বলছিলেন, বাবার জানাজায় অংশ না নেওয়াটা তার নিরাপত্তার জন্য জরুরি। এই সুযোগে তার সর্বোচ্চ নেতার পদটি সুরক্ষিত করতে মনোযোগ দিতে পারবেন।

‘আমার মনে হয়, তার (মোজতবা খামেনি) জন্য এখন বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। এই নাজুক মুহূর্তে দেশের নেতৃত্ব এবং তার নিজের নেতৃত্বকে সুরক্ষিত করাই এখন প্রধান উদ্দেশ্য’, যোগ করেন তিনি।

সূত্র: আলজাজিরা।