যুক্তরাষ্ট্রে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে একের পর এক বামপন্থি প্রার্থীর জয় ইসরাইলি গণমাধ্যম ও ইসরাইলপন্থি মহলে বিশেষ উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তাদের মতে, ইসরাইলকে সমর্থন করা এখন আর যুক্তরাষ্ট্রে ‘রাজনৈতিক সাফল্যের নিশ্চয়তা’ নয়। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
সর্বশেষ কলোরাডোর ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে ১৫ বারের ইসরায়েলপন্থী মার্কিন প্রতিনিধি ডায়ানা ডিগেটকে পরাজিত করেন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থী মেলাত কিরোস।
মার্কিন রাজনীতিতে যেসব প্রার্থী ইসরাইলের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করেছেন, গাজায় গণহত্যার বিরোধিতা করেছেন এবং ইসরাইলকে একটি বর্ণবাদী রাষ্ট্র হিসেবে বর্ণনা করেছেন তারাই এখন ধারাবাহিকভাবে জয়ী হচ্ছেন।
কিরোসের এই জয়ের আগে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির-সমর্থিত তিনজন ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট প্রার্থী, ফিলাডেলফিয়ার একটি কংগ্রেসনাল প্রাইমারির একজন প্রার্থী এবং ওয়াশিংটন ডিসির মেয়র নির্বাচনের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতেও একই ধারার প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।
ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টরা যুক্তরাষ্ট্রের বামঘেঁষা একটি রাজনৈতিক ধারা, যারা প্রায়ই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সাথে প্রাইমারি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে এবং মার্কিন বামপন্থী মহলে একটি শক্তিশালী শক্তিতে পরিণত হচ্ছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো এসব ফলাফলকে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ঘটনা হিসেবে দেখছে না। তাদের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পর বিশেষ করে ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দ্রুত কমছে।
বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে দ্য জেরুজালেম পোস্ট সতর্ক করে বলেছে, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি ক্রমেই ইসরাইল থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, একসময় কংগ্রেসে ইসরাইলবিরোধী ‘স্কোয়াড’ সদস্য ছিল মাত্র চারজন। কে ভেবেছিল, সেই সময়টিকেই একদিন নস্টালজিয়া নিয়ে স্মরণ করতে হবে?