কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের পরোক্ষ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশটি। বুধবার (১ জুলাই) দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্প্রতি দুই দেশের সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে।
আলোচনার বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের প্রতিনিধিরা দোহায় দুই দিন ধরে বৈঠক করেছেন। তাঁরা মূলত প্রাথমিক চুক্তির দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও ইরানের আটকে থাকা তহবিল ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা করেন।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের আলোচনার ফলাফলের ধারাবাহিকতায় এসেছে এটি।
আনসারি বলেন, উভয়পক্ষ ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের এক হামলায় আলি খামেনি নিহত হন। তাঁর জানাজা আগামীকাল শুক্রবার হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়ে দুই পক্ষই এগিয়ে যাচ্ছে। মূলত এই পরমাণু কর্মসূচির কারণেই গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেছিলেন তিনি।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার কাজ ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। এখন দেখা যাক কী হয়।
তবে সূত্রগুলোর দাবি, এবারের আলোচনায় পরমাণু কর্মসূচির বিষয়টি ওঠেইনি। আলোচনা মূলত কারিগরি বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, পরমাণু ইস্যুটি পরে বিবেচনা করা হবে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পরমাণু ইস্যু নিয়ে আমরা অবশ্যই চিন্তিত। আমরা এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছি।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা আলাদা বৈঠক করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানান, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও শীর্ষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এ বৈঠকে অংশ নেননি। যদিও উচ্চপর্যায়ের আলোচনা আখ্যা দিয়ে হোয়াইট হাউস তাদের ওই অঞ্চলে পাঠিয়েছিল।
ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা ও উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, আলোচনা শেষ হয়েছে।
তবে দুই পক্ষের মধ্যে কোনো মতবিরোধ দূর হয়েছে কিনা, সে বিষয়ে কেউ কিছু জানায়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, রয়টার্স