Image description

বৃটেনের সাম্ভব্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এক দশকের পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন আজ সোমবার। যেখানে তিনি মধ্যবৃত্তদেরকে করের আওতায় আনার বিষয়টি উল্ল্যেখ করতে পারেন। বামপন্থী এই আইনপ্রনেতা আগামী মাসে স্যার কিয়ের স্টারমার দায়িত্ব ছাড়ার পর তার কাজের পন্থা কেমন হবে তা উন্মোচন করতে শুরু করবেন। লেবার দলের প্রার্থী হিসেবে তাকে ১০ নং ডাইনিং স্ট্রিটের চাবি তুলে দেয়া হবে। যদিও জনগনের কোন প্রত্যাক্ষ সমর্থন ছাড়াই তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করবেন তবে তিনি ১০ বছরের জন্যই ক্ষমতায় থাকার পরিকল্পনা পেশ করবেন।

 

বার্নহ্যামের পরিকল্পনার মূলে থাকবে ক্ষমতার বিকেন্দ্র্রীকরণ। তিনি মেয়রদের ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চান। যেন তারা করারোপ করতে সক্ষম হন এবং ব্যবসায় হার ও আয়কর স্থানীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তিনি মনে করেন হোইটহলে কেন্দ্রীভূত হয়ে থাকা ক্ষমতা এবং অর্থ বৃটেনের উত্তরে বিকেন্দ্রেীকরণ হলে তা দেশের সকল ‘পোস্টকোডে’ উন্নতি করতে সক্ষম হবে। যদিও এই পরিকল্পনা উন্নয়নশীল চ্যাঞ্চেলর এড মিনিব্যান্ডের ক্ষেত্রে কাজ করেছে তবে এর ফলে নতুন সমস্যা দেখা দিতে পারে। দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে কর বেড়ে গিয়ে মধ্যবৃত্ত পরিবারগুলোকে বিপাকে ফেলে দিতে পারে। আজ ম্যানচেস্টারে দেয়া ভাষণে যদিও নিজস্ব স্টাইলে চলা ‘কিং অব নর্থ’ খ্যাত বার্নহ্যাম কর পরিকল্পনা বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন না তবে তার ঘনিষ্ঠরা নতুন সরকারের নীতি নিয়ে কিছু ইঙ্গিত দিয়েছেন। হবু প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনায় ধনীদের সম্পত্তিতে অধিক কর, আয়ের উপর কর এবং এক ধরণের নতুন কর যাকে অবিহত করা হচ্ছে ‘মৃত্যু কর’ সহ আরো কিছু নতুন ধরণের করের দেখা মিলতে পারে। বার্নহ্যাম লেবার দলের আর্থিক নিয়মগুলোর সহয়তা পাবেন, তবে তার মিত্ররা মনে করছেন এতে বৃটেনকে আরো বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ড ঋণ করতে হতে পারে। ছায়া চ্যাঞ্চেলর স্যার মেল স্ট্রাইড এ পরিকল্পনাকে চরম বিপর্যয় বলে আখ্যা দিয়ে বলেন আমরা সত্যিকারের বামপন্থী সরকার কেমন তা দেখতে যাচ্ছি। এটা পরিষ্কার যে বার্নহ্যাম কিয়ের স্টারমার এবং রিভস যে ভুল করছে তার দ্বিগুণ ভুল করবে। সব চিহ্ন দেখে মনে হচ্ছে তার কোন ধারণা নেই শুধু ঋণ করা, কর বৃদ্ধি করা ও খরচ বাড়ানো ছাড়া। আঞ্চলিক অবকাঠামো ও শিক্ষা খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সুফল পাওয়ার পক্ষে যুক্তি দেখাবেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। এ খবর দিয়েছে ডেইলি মেইল। দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক স্থবিরতার পর নিজেকে একজন ‘সার্কিট-ব্রেকার’ বা পরিবর্তনকারী হিসেবে উপস্থাপন করবেন বার্নহ্যাম। একটি প্রতীকী পদক্ষেপে তিনি লন্ডনের বাইরে ম্যানচেস্টারে ‘নং ১০ নর্থ’ নামে একটি নতুন কার্যালয় স্থাপন করে সেখান থেকে আংশিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন, যেখানে তিনি প্রায় এক দশক ধরে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। উত্তর অঞ্চলে ক্ষমতা ও অর্থ বিকেন্দ্রীকরণের তহবিল জোগাতে তিনি মধ্যবিত্ত দক্ষিণবাসীদের ওপর সম্ভাব্য কর আরোপের দিকে নজর দিচ্ছেন।

কর ব্যবস্থার পুনর্গঠন ও ‘ডেথ ট্যাক্স’: বার্নহ্যামের সরকার গঠনের রূপান্তর প্রক্রিয়ার সমন্বয়কারী এবং সাবেক পরিবহন মন্ত্রী লুইস হেইগ ব্রিটেনের বর্তমান কর ব্যবস্থাকে ‘অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছেন। বামপন্থী সাময়িকী ‘রিনিউয়াল’-এ লেখার সময় তিনি ক্যাপিটাল গেইন্স (মূলধনী লাভ) এবং আয়করের হার সমান করার পাশাপাশি কাউন্সিল ট্যাক্সের পরিপূরক হিসেবে একটি ‘সম্পত্তি ভূমি কর’ চালুর প্রস্তাব দেন। বার্নহামের দল ‘ফেয়ারার শেয়ার’ ক্যাম্পেইন গ্রুপের একটি প্রস্তাব পরীক্ষা করে দেখছে, যেখানে সব বাড়ির ওপর বার্ষিক ০.৪৮ শতাংশ কর আরোপের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে উত্তর-পূর্বে বার্ষিক গড় কর প্রায় ৭৪৮ পাউন্ড হলেও, দক্ষিণ-পূর্বে তা দাঁড়াবে ১,৮২৪ পাউন্ড এবং লন্ডনে ২,৬৬০ পাউন্ড। এছাড়া মৃত্যুর পর ক্যাপিটাল গেইন্সের দায়মুক্তির নিয়মটি বাতিল করা হতে পারে, যা সমালোচকদের কাছে ‘ডেথ ট্যাক্স’ বা মৃত্যু কর নামে পরিচিতি পেয়েছে।
ইশতেহার ও বিরোধীদের সমালোচনা: তার ইশতেহারের অন্যান্য পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সরকারি আবাসন (কাউন্সিল-হাউস) নির্মাণ প্রকল্প, ম্যানচেস্টারের সাথে এইচএস২ রেল যোগাযোগ পুনরুজ্জীবিত করা, প্রাক্তন শিল্প এলাকাগুলোর উন্নয়ন এবং জনসেবামূলক খাতগুলোর ওপর ‘সরকারি নিয়ন্ত্রণ’ প্রতিষ্ঠা করা। মেকারফিল্ডের মাত্র ২৫,০০০ ভোটারের (মোট ভোটারের মাত্র ০.০৫ শতাংশ) সমর্থন থাকা সত্ত্বেও আগামী ২০ জুলাই বার্নহাম ডাউনিং স্ট্রিটের চাবি হাতে পেতে যাচ্ছেন। এদিকে কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান কেভিন হলিনরেক এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বার্নহামের মূল ভাবনাই হলো রাজনীতিবিদদের মধ্যে ক্ষমতার রদবদল করা, কল্যাণ ব্যবস্থার সংস্কার করা নয়। তিনি আরও বলেন, পরিবার ও ব্যবসাগুলোকে শ্বাসরুদ্ধকারী কর কমানো কিংবা দেশের জন্য জরুরি প্রতিরক্ষা তহবিলের ব্যবস্থা না করে লেবার পার্টি কেবল বিকেন্দ্রীকরণ ও কমিটির রাজনীতি করছে, যা মূলত আসল সমস্যা থেকে মানুষের চোখ অন্যদিকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা।