মিরপুরে আশিকের কথিত ‘ভইরা দে’ গ্রুপের তাণ্ডব থামছেই না। নতুন নতুন এলাকায় মহড়া দিচ্ছে এই গ্রুপ। কারণ ছাড়াই বাসাবাড়ি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানোর পাশাপাশি পথচারীদেরও মারধরের অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। প্রায় ৩০টির বেশি মামলার আসামি আশিক কয়েকবার গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
পল্লবী-কালশী এলাকার আতঙ্ক হিসেবে পরিচিত ‘ভইরা-দে’ গ্রুপের আশিক গ্যাং এখন মিরপুর-১১ নম্বরের এভিনিউ-৫-এর প্রান্তিক হাউজিং এলাকাতেও আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১০টার দিকে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি দল এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের সবার মুখে মাস্ক ছিল এবং হাতে ছিল ধারালো দেশীয় অস্ত্র। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তারা সড়কের আশপাশের বাসাবাড়ির জানালার কাচ ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারণা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেই এই সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে তারা। অনেকের মতে, পল্লবী ও কালশীর পর আশিক গ্যাং এখন তাদের কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এক বাসিন্দা বলেন, ‘লম্বা দা নিয়ে ঘুরছিল। ‘আশিক ভাই’ বলে সবাই ভয় দেখাচ্ছিল। আমরা এতটাই আতঙ্কে ছিলাম যে, ঘর থেকে বের হতেও ভয় পেয়েছি।’
হঠাৎ এমন সন্ত্রাসী মহড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, পরিবার-পরিজন ও শিশুদের নিয়ে নিরাপদে বসবাস করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। একজন বাসিন্দা বলেন, ‘বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে থাকা যায় না। এলাকার পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়ে গেছে।’ আরেকজন বলেন, ‘সবার মুখ ঢাকা, হাতে বড় বড় অস্ত্র। এমন দৃশ্য দেখলে যে কেউ আতঙ্কিত হবে।’
জানা গেছে, আশিকের কথিত ‘ভইরা-দে’ গ্রুপে প্রায় শতাধিক সদস্য রয়েছে। পুলিশের চোখ এড়িয়ে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় তারা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন সময় আশিকের উপস্থিতি দেখা যায়। রাজধানীর পল্লবীসহ বিভিন্ন থানায় আশিকের বিরুদ্ধে হত্যাসহ প্রায় ৩০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় একাধিকবার গ্রেফতার হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে সে।
ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তাক সরকার বলেন, ‘আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি। গ্রেফতার করতে পারলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তার বিরুদ্ধে যেসব মামলা রয়েছে, সেগুলোতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গ্রেফতারের সময় নতুন কোনো অপরাধের তথ্য পাওয়া গেলে সেটিও মামলায় যুক্ত হবে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান আগে থেকেই চলমান আছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ আমলে গড়ে ওঠা এই আশিক গ্যাংয়ের দাপটে তারা অতিষ্ঠ। মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আশিকের মতো কিশোর গ্যাং সদস্যদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।
রাজধানীবাসীর দাবি, আইনের কোনো ফাঁকফোকর ব্যবহার করে যাতে এসব অপরাধী আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর নজরদারি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।