Image description

ইরানের অবমুক্ত অর্থ মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার জন্য ব্যয় করা হবে যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি এ বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে উল্লেখ করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগও তুলেছেন।

 

 

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটন ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে যে ইরানের অবমুক্ত সম্পদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনা হবে। ব্যঙ্গাত্মক ভাষায় তিনি লেখেন, বহু বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন তাদের বপন করা ফসল হিসেবে ফিরে এসেছে। পাশাপাশি তিনি কটাক্ষ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানির তালিকায় জিএমও সয়াবিন, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং ফাঁকা কথাবার্তাই বেশি দেখা যায়।

 

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া সমঝোতা স্মারকের প্রাথমিক ধাপে ৫০ কোটি ডলারের মার্কিন পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো অর্থ সরাসরি ইরানের হাতে যাবে না; বরং সেই অর্থ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের কাছ থেকে ভুট্টা ও গম কিনে ইরানের খাদ্যসংকট মোকাবিলায় ব্যবহার করা হবে।

 

একই ধরনের বক্তব্য দেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও। তার মতে, ইরানের জব্দ সম্পদ অবমুক্ত হলে তা একদিকে মার্কিন কৃষকদের লাভবান করবে, অন্যদিকে ইরানের জনগণের জন্য খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।

 

এদিকে বাহরাইনের রাজধানী মানামায় এক বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি চুক্তি চায়, যা দেশটির নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।

 

তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলো যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নয়। তাদের দাবি, এটি কোনো ছাড় নয়; বরং ইরানের জন্য একটি কৌশলগত সাফল্য।

 

আধা-সরকারি মেহের নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, আজারবাইজানের রাজধানী বাকু সফরকালে গালিবাফ সমঝোতা স্মারককে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তার দাবি, চুক্তিতে এমন কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই, যা ইরানকে মার্কিন পণ্য কিনতে বাধ্য করবে।

 

অন্যদিকে, সোমবার ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও জানান, অবমুক্ত হওয়া অর্থ শুধু জরুরি বা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না; প্রয়োজনে অন্যান্য ক্ষেত্রেও তা ব্যবহার করা যেতে পারে।

 

সমঝোতা স্মারকের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এখনও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকায় এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ও ব্যাখ্যা নিয়ে উভয় পক্ষের অবস্থানে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

 

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত এই সমঝোতা ১৮ জুন কার্যকর হয়। ওই দিন ইলেকট্রনিক স্বাক্ষরের মাধ্যমে চুক্তির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।