Image description

পাসপোর্ট মূলত একটি ভ্রমণ নথি। নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র নয়। ভারতের কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার এমন বক্তব্য ঘিরে দেশটিতে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা সমালোচনা। গতকাল বুধবার ১৪তম পাসপোর্ট সেবা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করে ওই কর্মকর্তা। তার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহল থেকে সামাজিক মাধ্যম সর্বত্র শুরু হয়েছে বিতর্ক।

মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, পাসপোর্ট শুধু ভারতীয় নাগরিকদেরই দেওয়া হয়। তার আগে একাধিক স্তরে যাচাই করা হয়। তবে কোনো ব্যক্তি নাগরিক কি না, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক তৈরি হলে আদালত জন্মসনদ, পারিবারিক নথি বা অন্য প্রমাণপত্রও চাইতে পারে। সেই কারণেই পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের একমাত্র ও চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে দেখা হয় না।

কিন্তু এই ব্যাখ্যা অনেকের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সমালোচকদের প্রশ্ন, যদি পাসপোর্টও নাগরিকত্বের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কোন নথি দেখিয়ে নিজেদের ভারতীয় নাগরিক বলে প্রমাণ করবেন?

বিশিষ্ট গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, সরকার যদি পুরোপুরি নিশ্চিত না হয় যে কোনও ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক, তাহলে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হয় কীভাবে? আবার রাজ্যসভার এমপি ও আইনজীবী কপিল সিব্বলও সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এতে নাগরিকত্ব নিয়ে অযথা বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা আদিত্য ঠাকরে প্রশ্ন তোলেন, পাসপোর্ট দেওয়ার আগে পুলিশ কীসের ভিত্তিতে যাচাই করে। অন্যদিকে প্রবীণ সাংবাদিক রাজদীপ সরদেশাই বললেন, ভোটার কার্ড, আধার, প্যান কার্ড এবং পাসপোর্ট- কোনোটিই যদি নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ না হয়, তাহলে নাগরিকদের জন্য আলাদা কোনো নাগরিকত্ব সনদের প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা ভেবে দেখা উচিত।

অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র এবং এআইএমআইএম প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসিও এই মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন।

তবে বিতর্ক বাড়তে থাকায় বৃহস্পতিবার কেন্দ্র জানায়, পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে না দেখার অবস্থান নতুন নয়। সরকারের দাবি, এই আইনি অবস্থান বহু বছর ধরেই কার্যকর রয়েছে এবং এ নিয়ে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।