Image description

ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে অনেক ভবন ধসে পড়েছে এবং বিভিন্ন স্থাপনার দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। রিখটার স্কেলে প্রথম ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২ এবং দ্বিতীয়টির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে এই জোড়া কম্পন অনুভূত হয়।

গতকাল বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্প দুটি আঘাত হানে। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় ওই সময়ে অধিকাংশ মানুষই বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বর্তমানে ধসে পড়া এসব ভবনে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে মারিয়া আলেজান্দ্রা (পুরো নাম জানাননি) রয়টার্সকে স্প্যানিশ ভাষায় বলেন, ভূমিকম্পের সময় আমি কোনোমতে পোশাক পরে নিচ্ছিলাম। আমরা যেভাবেই হোক দরজা খুলে বের হওয়ার চেষ্টা করি।

ভূমিকম্প থেকে বেঁচে ফেরা মারিয়া আলেজান্দ্রা সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন স্প্যানিশ ভাষায়। 

তিনি বলেন, ভূমিকম্পের সময় আমি কোনোমতে পোশাক পরে তৈরি হই। আমরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আসি। তখন চারদিকে ধুলো আর ধোঁয়ায় এমন অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল যে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না।


ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

তিনি আরও বলেন, নিচে নেমে যা দেখলাম, তা ছিল একেবারে হরর সিনেমার মতো ভয়াবহ। আমাদের ধ্বংসস্তূপ ডিঙিয়ে পথ চলতে হচ্ছিল। আমি দেখছিলাম ভবনের তত্ত্বাবধায়ক তার শিশু সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে আসছেন, অন্য প্রতিবেশীরাও নিচে নামছিলেন। তবে ওই ভবনটি থেকে মাত্র একটি পরিবারকেই আমি শেষ পর্যন্ত অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে দেখেছি।

রাজধানী পূর্ব কারাকাসের বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সী কোরো মার্টিনেজ বার্তা সংস্থাটিকে বলেন, বিকট শব্দে ঘরের সব জিনিসপত্র হুড়মুড় করে পড়ে যাচ্ছিল, এমনকি ফ্রিজের ভেতর রাখা জগগুলোও ছিটকে পড়ে। আমি জীবনে আগে কখনো এমন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হইনি।

মারিয়া রোমেরো নামে এক পেনশনভোগী এই ভূমিকম্পকে ১৯৬৭ সালে কারাকাসের সেই প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এবারেরটি ছিল আগের চেয়েও ‘আরও ভয়াবহ।’

‘চারদিকে শুধু ভেঙে যাওয়া আসবাবপত্র আর কাঁচের টুকরো’

 

এই দুর্যোগের অভিজ্ঞতা নিয়ে আরেকজন রয়টার্সকে বলেন, ভূমিকম্পের তীব্রতায় আমার ভবনের বেশ কিছু দেয়াল ভেঙে পড়েছে। কোথাও কোথাও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প
কারাকাসের আলতামিরা এলাকায় ভূমিকম্পের আঘাতে বিধ্বস্ত একটি ভবন। ছবি: এএফপি

কারাকাসের সাংবাদিক নরিস আরগোটে সোতো পুরো শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ আতঙ্কের বর্ণনা দিয়েছেন। আল জাজিরাকে টেলিফোনে তিনি বলেন, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। আমরা সবাই ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।

তিনি আরও যোগ করেন, আমার নিজের ভবনেই বড় ধরনের ফাটল ধরেছে। এই মুহূর্তে আমাদের এখানে কোনো বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেট সংযোগ নেই। আমি চারদিকে শুধু ভেঙে চুরমার হয়ে যাওয়া জিনিসপত্র আর কাঁচের টুকরো পড়ে থাকতে দেখছি।

তিনি জানান, চাকাও মিউনিসিপ্যালিটিতে অন্তত আটটি ভবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আরও বেশ কিছু ভবন পুরোপুরি ধসে পড়েছে।

তিনি বলেন, রাস্তায় অসংখ্য মানুষ জড়ো হয়ে আছেন; তারা তাদের বাড়ি বা ভবনে ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন। আফটারশকের শঙ্কায় সবার মনে চরম আতঙ্ক কাজ করছে।