ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বুধবার (২৪ জুন) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৪ ডলারের নিচে নেমে যায় বলে জানিয়েছে এএফপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধের কারণে যে ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছিল, বিনিয়োগকারীরা এখন সেই ঝুঁকিকে কম গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে।
এদিন বিকেলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম কিছু সময়ের জন্য ব্যারেলপ্রতি ৭৪ ডলারের নিচে নেমে আসে। অর্থাৎ তেলের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ কমে ৭৪ দশমিক ৭৩ ডলারে দাঁড়ায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭৫ ডলারের নিচে লেনদেন হলো।
বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমে আসে। যুদ্ধ শুরুর আগে এর দাম ছিল প্রায় ৬৭ ডলার।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজের চলাচল বাড়তে শুরু করা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শন ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই পক্ষের মতপার্থক্য এখনও রয়ে গেছে, যা চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক মাসের বিঘ্নের পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। তবে তা এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন ১২৫ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করত। এর মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহন হতো। যা বিশ্ব সমুদ্রপথে তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) জানিয়েছে, জুনের শুরুতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের তেল রপ্তানি যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থার প্রায় ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে। মার্চে দেশটির দৈনিক তেল রপ্তানি ছিল ১৯ লাখ ব্যারেল, যা বেড়ে প্রায় ৪৩ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ীরা এখন ধারণা করছেন যে, অস্থায়ীভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়া এবং শান্তি প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ফলে ইরানের অপরিশোধিত তেল আবারও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক বাজারে ফিরতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্যাঙ্কার চলাচল স্বাভাবিক হওয়া এবং ইরানি তেলের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ।
যুদ্ধ চলাকালে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর তেলের দাম এখন প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। সে সময় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৮ ডলারে উঠেছিল। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে আগামী মাসের ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ফিউচার ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে লেনদেন হয়েছে। তবে এটি এখনও যুদ্ধ শুরুর আগের দিনের ৭২ দশমিক ৪৮ ডলারের চেয়ে বেশি।