Image description

পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে আগে সই করা ১৪-দফা ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারকের অধীনে ৬০ দিনের আলোচনা পর্বের শুরু করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। কিন্তু আলোচনায় উপস্থিত না থেকেও সোশ্যাল মিডিয়ায় তেহরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি ও অবমাননাকর পোস্ট এবং লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার জেরে বৈঠক স্থগিত করেছে ইরানের প্রতিনিধিদল। এক্ষেত্রে আবারও আলোচনায় বসতে ট্রাম্পের ক্ষমা চাওয়া এবং লেবানন থেকে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহারের শর্ত দিয়েছে তেহরান।

জেনেভায় অবস্থিত ইরানের নেটওয়ার্ক অফিসের পরিচালক আল-মায়াদিন ঘোষণা করেছেন, আলোচনা স্থগিত করা এবং পরবর্তী অধিবেশনে যোগ না দেওয়ার বিষয়ে ইরানের শর্ত স্পষ্ট।

তিনি জানিয়েছেন, ট্রাম্প ক্ষমা চাইলে এবং ইসরায়েল দক্ষিণ লেবানন থেকে সরে গেলেই কেবল ইরানি প্রতিনিধিদল আলোচনায় ফিরবে। ইরানিরা এখন শুধু ইসরায়েলি আগ্রাসনের অবসানই নয়, বরং দক্ষিণ লেবানন থেকে দখলদারদের প্রত্যাহারেরও দাবি জানাচ্ছে।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমকে জানিয়েছে, দুই মধ্যস্থতাকারীদেশসহ ইরান-ওয়াশিংটন আলোচনা স্থানীয় রবিবার বিকাল ৩টার দিকে শুরু হয় এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা চলার পর প্রতিনিধিদলগুলোর মধ্যে আলোচনার জন্য আধা ঘণ্টার বিরতি দেওয়া হয়।

তবে, এরই মধ্যে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা হুমকি ও অপমানজনক মন্তব্যের কারণে ইরানি প্রতিনিধিদল চতুর্পক্ষীয় আলোচনায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

তা সত্ত্বেও, কাতার ও পাকিস্তানের প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় হয়েছিল।

মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা এখনও চলমান, কিন্তু আপাতত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। চতুর্পাক্ষিক বৈঠক চলাকালে ইরানি প্রতিনিধিদল প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘনের, বিশেষ করে সমঝোতা স্মারকের একটি শর্ত লঙ্ঘনের, সুস্পষ্ট প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ইরানি প্রতিনিধিদল ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্তি এবং ইরানি তেল রপ্তানি সনদপত্র প্রদানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করারও আহ্বান জানিয়েছে।

পারমাণবিক বিষয় প্রসঙ্গে ইরানি প্রতিনিধিদল জোর দিয়ে বলেছে, সমঝোতা স্মারকের ১, ৪, ১০ এবং ১১ নম্বর অনুচ্ছেদে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপরই পারমাণবিক আলোচনা শুরু হওয়া নির্ভর করছে।

এর আগে, আলোচনার মধ্যেই ইরানকে আবারও হামলার হুমকি দিয়ে পোস্ট করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে তিনি বলেছেন, লেবাননে তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের (হিজবুল্লাহ) অশান্তি বন্ধ না করলে গত সপ্তাহের চেয়েও তীব্র হামলার মুখোমুখি হতে হবে ইরানকে।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম নিউজ এজেন্সি