ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে বহুল প্রত্যাশিত অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হলেও, উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অন্তত পাঁচটি দফা বা শর্ত নিয়ে মতবিরোধ বিদ্যমান।
গত ১৮ জুন ডিজিটাল স্বাক্ষরের মাধ্যমে শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয় ওয়াশিংটন ও তেহরান। তবে ইরানের দেওয়া ‘রেড লাইন’ তথা অলঙ্ঘনীয় সীমারেখা লেবাননে আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
ফলে শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তি-পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নিয়ে আয়োজিত শান্তি সংলাপও ভেস্তে যায়। যদিও হোয়াইট হাউস কিংবা সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, আলোচনা বাতিল করা হয়নি, বরং আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতায় পৌঁছানোর পর লেবাননে প্রক্সি বাহিনী হিজবুল্লাহকে লক্ষ্যবস্তু করে কয়েক ডজন হামলা চালায় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী। এর পরেই মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করেন। তবে ইরানের আলোচক দলের দেশটি সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানতে পেরেছে যে, সমঝোতা স্মারকের অন্তত পাঁচটি দফা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে মতবিরোধ রয়েছে তেহরানের। দফাগুলো হলো ১, ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনার প্রথম বড় বিষয়টি হলো, দুই দেশই একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক সীমানাকে সম্মান করতে রাজি হয়েছে, যার মধ্যে লেবাননও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
তবে শর্ত হচ্ছে, লেবানন পরিস্থিতির কোনো সমাধান না হলে এই আলোচনা আর সামনে এগোবে না। এই কারণেই বর্তমানে ইরানের পক্ষ থেকে জোরালো চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে আগে থেকে যেসব বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যেন তা পুরোপুরি মেনে চলে।
এই আলোচনায় ইরানের প্রধান দাবি হলো, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের (ট্রেজারি) অস্থায়ী আদেশের মাধ্যমে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞাগুলো চূড়ান্তভাবে তুলে নিতে হবে।
আর সেটি পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার আগ পর্যন্ত যেন ইরানের ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল রাখা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মার্কিন বাহিনীকে ইরানের ভূখণ্ড বা সীমানা থেকে সরিয়ে নেওয়ার দাবিও করছে তারা।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও পাল্টা চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকানদের মূল দাবি হলো ইরান তাদের কাছে জমা থাকা ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে আসলে কী পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সেটার বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রমাণ আগে দেখাতে হবে। এই পারমাণবিক শর্ত পূরণ না হলে ওয়াশিংটনও আলোচনার পরবর্তী ধাপে যেতে রাজি নয়।
মতবিরোধ থাকা শর্তগুলো কী কী
সমঝোতা স্মারকের ১ নম্বর দফাটি হলো লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে এবং স্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হবে।
৪ নম্বর দফা হলো ইরানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলো থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
৫ নম্বর দফায় ইরানের তেল খাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা ও ইরানকে তার জ্বালানি আয়ের ওপর পূর্ণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
১০ নম্বর দফা হলো আলোচনাকালীন সময়ে ইরানের ওপর নতুন কোনো অর্থনৈতিক বা রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে না।
১১ নম্বর দফা আলোচনা চলাকালেই ইরানের স্থগিত থাকা ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ফ্রিজড অ্যাসেট বা সম্পদ অবমুক্ত করার কথা উল্লেখ আছে।