সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা ড. অ্যান্থনি ফাউসি চীনের উহানের সেই বিতর্কিত ল্যাবরেটরিতে অর্থায়ন করেছিলেন, যেখান থেকে করোনাভাইরাস মহামারী ছড়িয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের বিদায়ী পরিচালক (ডিএনআই) তুলসী গ্যাবার্ড তার বিরুদ্ধে এই বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন। পদ ছাড়ার আগে তিনি এমন কিছু নথি প্রকাশ করেন, যা আগে কখনও সামনে আসেনি।
ওই গোপন নথিতে গ্যাবার্ড জানান, ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আঘাত হানার পর বাইডেন সরকারের মহামারী নিয়ন্ত্রণ নীতির প্রধান ড. ফাউসি মার্কিন করদাতাদের মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার চীনের উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজিতে পাঠাতেন। সেখানে বাদুড়ের করোনাভাইরাসের ওপর অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘গেইন-অফ-ফাংশন’ গবেষণার জন্য এই অর্থ ব্যবহার করা হতো। ফাউসি রাজনৈতিক স্বার্থে কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভাইরাসের এই ‘ল্যাব-লিক’ বা গবেষণাগার থেকে ছড়িয়ে পড়ার সত্যটি ধামাচাপা দিয়েছিলেন বলে গ্যাবার্ডের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে।
গ্যাবার্ডের কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রকাশিত নথিগুলো প্রমাণ করে, ড. ফাউসি কোভিড-১৯ সংক্রান্ত মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়নকে প্রভাবিত ও কারসাজি করতে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিলেন। একই সঙ্গে ফাউসি ২০২৪ সালে মার্কিন কংগ্রেসে শপথ নিয়ে মিথ্যা বলেছিলেন। তখন তিনি দাবি করেন, ভাইরাসের গবেষণা নিয়ে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সভার বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ৮৫ বছর বয়সী ফাউসি ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৮ বছর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের প্রধান ছিলেন। ট্রিলিয়ন ডলারের বড় বড় ওষুধ কোম্পানি এবং ‘ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিন’ তৈরির বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণায় ফান্ড দিয়েছিলেন।
সাবেক গোয়েন্দা প্রধান (ডিএনআই) তুলসী গ্যাবার্ড গত মাসে অসুস্থ স্বামীর সেবা করার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোয়েন্দা প্রধানের পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, ফাউসি সত্য আড়াল করতে ‘ডিপ স্টেট’ বা পর্দার আড়ালের সরকারের পুরোনো কৌশল ব্যবহার করেছেন। কোভিড-১৯ মহামারী কোটি কোটি আমেরিকান ও বিশ্ববাসীর জীবনে সীমাহীন কষ্ট ও বেদনা বয়ে এনেছে। বছরের পর বছর ধরে চলা মিথ্যা, সেন্সরশিপ ও ধামাচাপা দেওয়ার পর, এখন মার্কিন জনগণের সত্য ও জবাবদিহিতা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
গ্যাবার্ডের কার্যালয় আরও জানায়, ২০২৪ সালের জুনে কংগ্রেসে শুনানির সময় ফাউসিকে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি মহামারী চলাকালীন বা তার আগে-পরে কখনও এফবিআই, সিআইএ, বা ডিআইএ-এর মতো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে ভাইরাস গবেষণা নিয়ে কথা বলেছেন কি না। ফাউসি তখন সরাসরি উত্তর এড়িয়ে মিথ্যা দাবি করেছিলেন, ‘কোভিড নিয়ে আমার জানামতে এমন কিছু হয়নি।’
একাধিক তথ্যদাতার বরাত দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, যে সমস্ত গোয়েন্দা বিশ্লেষক ফাউসির ‘প্রাকৃতিক উৎস’ তত্ত্বের বিরোধিতা করে ল্যাব-লিকের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদের চাকরিচ্যুতি ও ক্যারিয়ার ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ড. অ্যান্থনি ফাউসির পক্ষ থেকে এই অভিযোগের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বা পাল্টা জবাব পাওয়া যায়নি।