বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গে চলছে হকার উচ্ছেদ। লাগাতার হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে ফের রাজপথে নামলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুনর্বাসন ছাড়া হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে বুধবার (১৭ জুন) নেতাকর্মীদের সঙ্গে রাজপথে বিক্ষোভ ও পদযাত্রা করতে দেখা যায় মমতাকে।
বুকে প্ল্যাকার্ড লাগিয়ে মানববন্ধন করে ধর্মতলা মোড় থেকে ওয়েলিংটন পর্যন্ত বিজেপি সরকার বিরোধী প্রতিবাদ মিছিল করেন মমতা। মমতার সঙ্গে মিছিলে অবশিষ্ট তৃণমূল কংগ্রেসের হাতেগোনা নেতৃত্বকে অংশ নিতে দেখা যায়। ছিলেন শুধুমাত্র একজন বিধায়ক কুণাল ঘোষ ও একজন সংসদ সদস্য দোলা সেন।
ভোটে ভরাডুবির পর ভেঙে পড়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই পরিস্থিতিতে হকার উচ্ছেদের মতো ইস্যু হাতছাড়া করতে চাননি তৃণমূল নেত্রী। একই ইস্যুতে দ্বিতীয়বার রাজপথে নেমে একদিকে দলের সাংগঠনিক শক্তি এবং অন্যদিকে জনগণের পালস বোঝার চেষ্টা করলেন মমতা। তবে পদযাত্রা শেষে কোনো রকম বক্তব্য রাখেননি তিনি।
এর আগে হকার উচ্ছেদ থেকে বুলডোজার বিরোধী আন্দোলন করেছে বামেরা। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বামেদের অবস্থান অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে আসছে। বুধবার পথে নেমে মমতা এটাও স্পষ্ট করলেন, তিনি সহজে বামেদের হাতে প্রধান বিরোধী দলের তকমা তুলে দেবেন না।
এদিকে মমতা আন্দোলনে ফিরলেও তাঁর দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার হওয়ার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বুধবার গ্রেপ্তার হয়েছেন রাজ্যের আরও প্রভাবশালী তৃণমূল কংগ্রেস নেতা ও এক সাবেক মন্ত্রী। এবার পুলিশের জালে তৃণমূলের দাপুটে নেতা ও সাবেক বিধায়ক উদয়ন গুহ। বুধবার কলকাতার ফুলবাগানের বাড়ি থেকে উদয়ন গুহকে গ্রেপ্তার করে কোচবিহার জেলা পুলিশ।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সাবেক উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মাথাভাঙা থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছিল। থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন ভাওয়াইয়া সঙ্গীতশিল্পী মণীন্দ্রনাথ বর্মণ। ওই সঙ্গীতশিল্পীর অভিযোগ, সাবেক মন্ত্রী উদয়ন গুহ তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। সঙ্গীতশিল্পী জানিয়েছিলেন, তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি গান বেঁধেছিলেন। এই গানের পরে উদয়ন গুহ তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন। তৃণমূল আমলে থানায় অভিযোগ জানাতে পারেননি।