ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত সমঝোতা চুক্তি ঘিরে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমের দাবি, চুক্তির খসড়া দেখা ও পর্যালোচনার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল তেল আবিব। তবে সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ফলে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে সই হতে যাওয়া চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু এখনও জানে না ইসরায়েল। যদিও এ ধরনের কোনও অনুরোধ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) দেখতে চেয়ে ইসরায়েলের করা একটি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে বলে ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর ফলে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু সম্পর্কে এখনও অন্ধকারে রয়েছে ইসরায়েল।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) চ্যানেল ১২-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সমঝোতা স্মারকটি দেখার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। তবে সেই অনুরোধ নাকচ করে দেয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনও জানে না ইসরায়েল’। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই সমঝোতা আনুষ্ঠানিকভাবে সই হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র। নাম প্রকাশ না করার শর্তে আনাদোলুকে তিনি বলেন, তেল আবিব যুক্তরাষ্ট্রের আলোচকদের কাছে ‘এ ধরনের কোনও অনুরোধই’ জানায়নি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ওই প্রতিবেদনকে ‘ভুল’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, পুরো আলোচনা প্রক্রিয়াজুড়ে ইসরায়েলসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ‘ঘনিষ্ঠ সমন্বয়’ বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন।
চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমঝোতা স্মারকটির ‘প্রতিটি শব্দ’ পর্যালোচনা করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তবে এই নথির বিষয়বস্তু কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার কোনও আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সমঝোতা স্মারকে ১৪টি ধারা রয়েছে।
এসব প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ধারাগুলোর মধ্যে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ তুলে নেয়া, ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরান পুনর্গঠনের একটি পরিকল্পনাও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে চুক্তিটি সই হবে এবং এর পর হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেয়া হবে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান— কোনও পক্ষই সমঝোতা স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি।
শীর্ষনিউজ