চীনের হয়ে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে অভিযোগ ওঠা ১২টির বেশি ওয়েবসাইট জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের দাবি, সন্দেহভাজন চীনা এজেন্টরা এসব ওয়েবসাইট ব্যবহার করে নিরাপত্তা ছাড়পত্রপ্রাপ্ত (সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স) বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের নিয়োগের চেষ্টা করছিল।
ওয়েবসাইটগুলো জব্দের জন্য দাখিল করা এফবিআইয়ের হলফনামা অনুযায়ী, কয়েকজন নাম প্রকাশ না করা ব্যক্তি ভুয়া ‘কনসালটিং কোম্পানি’ প্রতিষ্ঠা করে এসব ওয়েবসাইট পরিচালনা করছিলেন। তাদের লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া, যাঁদের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে সংবেদনশীল এবং সম্ভবত শ্রেণিবদ্ধ তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে।
হলফনামায় বলা হয়েছে, ওয়েবসাইটগুলোতে ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অ্যানালিস্ট (রিমোট)’, ‘ডিফেন্স অ্যানালিস্ট’, ‘সাবেক সামরিক সদস্যদের জন্য চাকরি’ এবং বিভিন্ন সাধারণ ‘কনসালটিং’ পদের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল।
নথিতে সাতজন নাম প্রকাশ না করা ব্যক্তির উল্লেখ রয়েছে, যাঁরা এসব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছিলেন। তদন্তকারীদের ভাষ্য, নিয়োগদাতারা তাঁদের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণাপত্র বা বিশ্লেষণধর্মী নথি চেয়েছিলেন। এসব বিষয়ের মধ্যে ছিল চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, ইরান এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ। একই সঙ্গে তাঁদের কাছ থেকে অভ্যন্তরীণ বা একচেটিয়া তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছিল।
এফবিআই মনে করছে, এই নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারীরা সবাই বিদেশে অবস্থান করছিলেন এবং তাঁরা চীনা সরকারের হয়ে ‘জেনেশুনে অথবা অজান্তেই’ কাজ করছিলেন। তবে বুধবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীরা কোনো বিদেশি সরকারের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ওয়েবসাইটগুলোর খরচ পরিশোধ করা হয়েছিল ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিদেশি ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে। যদিও এ পরিকল্পনার মাধ্যমে কোনো শ্রেণিবদ্ধ তথ্য আদান-প্রদান হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে, ষড়যন্ত্রকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অর্থ পরিশোধ করতেন। তবে সেই অর্থের উৎস ছিল বিদেশে থাকা হিসাবগুলো।
এফবিআই বলছে, সংবেদনশীল গোয়েন্দা তথ্যের নাগাল পেতে অভিযুক্তরা পরিচয় চুরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিও এবং গবেষণা প্রতিবেদনের বিনিময়ে তুলনামূলকভাবে বড় অঙ্কের অর্থ প্রদানের মতো কৌশল ব্যবহার করেছে। এ ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অপরাধ তদন্ত সংস্থা (এনসিআইএস) এক প্রতিবেদনে অভিযোগ করেছিল, বিদেশি বিভিন্ন পক্ষ ফেডারেল কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা করছে এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় ব্যাপক ছাঁটাইয়ের ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনাকে কাজে লাগাতে চাইছে।
সে সময় সিএনএনের হাতে আসা এনসিআইএসের একটি নথিতে বলা হয়েছিল, অন্তত একজন বিদেশি গোয়েন্দা কর্মকর্তা তাঁর নিয়ন্ত্রিত একজন ব্যক্তিকে লিংকডইনে একটি কোম্পানির প্রোফাইল খুলতে, চাকরির বিজ্ঞাপন দিতে এবং যেসব ফেডারেল কর্মী নিজেদের “ওপেন টু ওয়ার্ক” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তাঁদের সক্রিয়ভাবে খুঁজে বের করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এফবিআই জানিয়েছে, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নির্বাচিত ব্যক্তিদের চীনা সরকারের আগ্রহের বিভিন্ন বিষয়ে চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিল চাকরি অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম যেমন লিংকডইন, আপওয়ার্ক এবং একই ধরনের অন্যান্য ওয়েবসাইটে। হলফনামা অনুযায়ী, অভিযুক্তরা বিদেশের প্রকৃত কোম্পানিগুলোর তথ্য ও ছবি কপি করে নিজেদের প্রতারণামূলক ওয়েবসাইটে ব্যবহার করেছিল, যাতে সেগুলো বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হয়।
শীর্ষনিউজ