Image description

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গরুর শরীরে বিপজ্জনক ও মাংসখেকো পরজীবী সনাক্ত হওয়ায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে কানাডা। দেশটির খাদ্য পরিদর্শন সংস্থা টেক্সাস থেকে গবাদিপশু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কানাডা সীমান্ত পার হওয়ার আগের ২১ দিনের মধ্যে কোনো গরু বা ঘোড়া টেক্সাস রাজ্যে অবস্থান করলে তা আর কানাডায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।

 

রোববার (৭ জুন) সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গরুর মাংস উৎপাদনকারী অঞ্চল টেক্সাসে পরপর দুটি বাছুরের শরীরে মাংসখেকো ‘স্ক্রুওয়ার্ম’ পরজীবী পাওয়ার পর কানাডা সরকার এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়।

 

কানাড ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গবাদিপশুর দ্বিমুখী বড় বাণিজ্য রয়েছে। কানাডার কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর তারা যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫৫ হাজার গবাদিপশু আমদানি করেছে। প্রজনন, দুধ ও মাংসের প্রয়োজনে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পশু সীমান্ত পারাপার হয়ে থাকে।

 

পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায়, টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট রাজ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেন, চলতি গ্রীষ্মকালীন সময়ে এই পরজীবী আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

টেক্সাসের কৃষি শিল্পের জন্য এ বিপর্যয় আসন্ন হুমকি উল্লেখ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত এলাকাগুলোতে বাড়তি সরকারি বরাদ্দ ও জনবল পাঠানো হচ্ছে।

‘নিউ ওয়ার্ল্ড স্ক্রুওয়ার্ম’ নামের এই পরজীবীটি আসলে এক ধরণের মাছি। এর স্ত্রী মাছিগুলো মানুষসহ যেকোনো উষ্ণরক্তের প্রাণীর খোলা ক্ষত বা নরম চামড়ায় ডিম পাড়ে। ডিম ফুটে শত শত লার্ভা বের হওয়ার পর সেগুলো প্রাণীর জ্যান্ত মাংস কামড়ে ভেতরে ঢুকতে শুরু করে। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে আক্রান্ত প্রাণী তীব্র যন্ত্রণায় মারা যায়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, মেক্সিকো সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ মাইল দূরে লা প্রায়র শহরে তিন সপ্তাহের একটি বাছুরের নাভিতে ৬০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো এই পোকার লার্ভা পাওয়া যায়। মাত্র দুদিন পর, প্রথম স্থান থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে জ্যাভালা কাউন্টিতে এক মাস বয়সী আরেকটি বাছুরের শরীরে দ্বিতীয় কেসটি সনাক্ত হয়। প্রথম আক্রান্তের পর গঠিত ২০ কিলোমিটারের একটি নিয়ন্ত্রণ অঞ্চলের ভেতরেই দ্বিতীয়টি ধরা পড়ে। বর্তমানে ওই এলাকায় কোয়ারেন্টাইন ও যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। মূলত সেন্ট্রাল আমেরিকা ও মেক্সিকো হয়ে এই প্রাদুর্ভাব এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে।

 

কানাডা বলছে, তাদের দেশের ঠান্ডা জলবায়ুর কারণে এই পরজীবীটি সেখানে বড় কোনো মহামারি তৈরি করতে পারবে না। তবুও সতর্কতাবশত কানাডার খামারিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা গবাদিপশুর শরীরে কোনো ক্ষত, পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত কাটা জায়গা দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেন। এমনকি নাগরিকদের টেক্সাস ভ্রমণের পর তাদের পোষা বিড়াল-কুকুরও ভালো করে পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।