Image description

দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানের বিরুদ্ধে মোতায়েন থাকা সামনের সারির সেনাদের হাতে একটি নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা দিয়েছে চীন। এই ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম এইচকিউ-১৬এফ।

 

ধারণা করা হচ্ছে, এর সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট পিএসি-২ ও পিএসি-৩ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্ষমতার সমতুল্য, অর্থাৎ এটি শত্রুর বিমান, ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে সক্ষম।

 

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি জানিয়েছে, তাইওয়ান প্রণালি-সংলগ্ন ফুজিয়ান প্রদেশে অবস্থানরত ৭৩তম গ্রুপ আর্মি নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি গ্রহণের পর গোবি মরুভূমিতে এর প্রথম বাস্তব যুদ্ধ-মূল্যায়ন পরীক্ষা চালায়।

 

পরীক্ষায় একটি মোবাইল লঞ্চার থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় এবং এটি প্রায় ৫০ কিলোমিটার (৩০ মাইল) দূরের লক্ষ্যবস্তু সফলভাবে ধ্বংস করে।

 

ভিডিওতে দেখা গেছে, এইচকিউ-১৬এফের নকশা আগের অনেক ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে ভিন্ন। এতে মাঝখানে ডানা নেই, বরং উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণের জন্য পিছনে চারটি লেজের পাখনা ব্যবহার করা হয়েছে।

 

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, এইচকিউ-১৬এফ হলো চীনের তৈরি একটি আধুনিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা আকাশে থাকা শত্রু বিমান, ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে। ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

 

এইচকিউ-১৬ সিরিজের আধুনিক সংস্করণগুলোতে উন্নত অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিক্যালি স্ক্যানড অ্যারে (এইএসএ) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। যার ফলে ব্যাটারির রাডারকে একাধিক লক্ষ্যবস্তুকে ট্র্যাক করতে এবং একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি আক্রমণ চালাতে সক্ষম।

 

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা বলছেন, তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনার মধ্যে চীন তাদের সামনের সারির বাহিনীকে আরও আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে শক্তিশালী করছে।

 

তাইওয়ানের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে যুক্তরাষ্ট্র হিমার্স রকেট আর্টিলারি ও এটিএসিএমএস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করায় তাইওয়ান প্রণালিতে আকাশ প্রতিরক্ষার গুরুত্ব বেড়েছে। এই অস্ত্রগুলো চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করতে সক্ষম।

 

জানুয়ারির শেষ দিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি যৌথ ফায়ারপাওয়ার সমন্বয় কেন্দ্র গঠন করে। এর ফলে তাইপেতে থাকা মার্কিন কর্মকর্তারা তাইওয়ানের ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য ব্যবহারের ওপর নজরদারির সুযোগ পেয়েছেন।

 

এর মাধ্যমে ওয়াশিংটন এমন লক্ষ্যবস্তু বেছে নিতে পারে, যেগুলোতে হামলা হলে চীনের অর্থনৈতিক ক্ষতি বেশি হবে।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাওয়া অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে, কারণ ফেব্রুয়ারিতে নিশ্চিত করা হয় যে চীনের মূল ভূখণ্ডের উপকূল থেকে মাত্র ১৬ কিলোমিটার দূরে এটিএসিএমএস ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।