Image description

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত বিক্ষোভে সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট মুছে দেওয়া বা অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিলেও আন্দোলনের কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করা যাবে না।

শনিবার দুপুরে যন্তর মন্তরের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দীপকে বলেছেন, ‘এক মাস ধরে আমরা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। কিন্তু সমস্যার সমাধান করার বদলে আমাদের পোস্ট সরানো, অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা এবং কণ্ঠরোধের চেষ্টা করা হয়েছে। পোস্ট মুছে দিতে পারেন, কিন্তু আমাদের এই জায়গা থেকে মুছে দিতে পারবেন না।’

দীপকের এই মন্তব্য ঘিরে বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত ছাত্র-যুবকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। তার বক্তব্যের সময় সমর্থকদের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে জন্তর মন্তর।

আজ সকালেই আমেরিকার বোস্টন থেকে দিল্লিতে পৌঁছন অভিজিৎ। বিমানবন্দরে নেমেই তিনি সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দেন। সেখানে তিনি বলেছেন, ‘জন্তর মন্তরে আপনাদের সবার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি। এই আন্দোলন ভালোবাসা ও শান্তির পথে এগিয়ে নিতে হবে। সঙ্গে একটি বই এবং জাতীয় পতাকা আনতে ভুলবেন না।’

প্রথমে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছিল, তাদের কাছে বিক্ষোভের জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক আবেদন জমা পড়েনি। তবে পরে জন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়। সকাল থেকেই সেখানে ছাত্র, চাকরিপ্রার্থী এবং তরুণদের ভিড় জমতে শুরু করে। বিক্ষোভকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং সংবেদনশীল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বিক্ষোভের মূল দাবি বিভিন্ন জাতীয় স্তরের পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অভিযোগ ওঠা অনিয়মের তদন্ত এবং তার দায় নির্ধারণ। অভিজিৎ দীপকের দাবি, নীট, সিইউইটি, সিবিএসই পরীক্ষা, এসএসসি ও জিডি নিয়োগ পরীক্ষাসহ একাধিক ক্ষেত্রে বিতর্কের কারণে এক কোটিরও বেশি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই কারণেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করা হচ্ছে।