Image description

ইরানে যুদ্ধ থামানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট কংগ্রেসে রেজল্যুশন পাসের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। রেজল্যুশনটিকে ‘নিরর্থক’ এবং ‘দেশপ্রেমহীন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পেতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া আরব দেশগুলোতে পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এ পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ১৪ দেশে নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে করা এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, কংগ্রেসের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে একটি নিরর্থক রেজল্যুশন পাস হয়েছে। চারজন বাজে রিপাবলিকান এমপি তাতে ভোটও দিয়েছেন। আমার যুদ্ধসংক্রান্ত ক্ষমতা সীমিত করতেই এই রেজল্যুশন আনা হয়েছে। এমন একসময়ে এটি পাস করা হয়েছে, যখন আমরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের সঙ্গে যুদ্ধাবসানসংক্রান্ত আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে আছি।

এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পেতে দেশটির সঙ্গে কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই যুক্তরাষ্ট্রের। আমরা এখনই এটি (ইউরেনিয়াম) পেয়ে যেতে পারি। আমরা যদি চাই, আমার মনে হয় না তারা আমাদের আটকাতে পারবে। তবে এর কোনো প্রয়োজন নেই। কারণ, এটি এখন চাপা পড়া (নিষ্ক্রিয়) অবস্থায় আছে।

তিনি আরও বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সঙ্গে বৈঠক করার কোনো ইচ্ছা আমার নেই। ওয়াশিংটন ও তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারে, তবে দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হওয়া সম্ভব। যদি এমন কিছু ঘটে, তবে আমি অবশ্যই সম্মান প্রদর্শন করব।

অন্যদিকে মধ্যপ্রাচের যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেবে সেসব দেশ তাদের পাল্টা হামলার বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরআইবিতে প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির (দেশের) বিরুদ্ধে, পারমাণবিক শক্তি সমৃদ্ধ দেশের বিরুদ্ধে ৪০ দিন লড়াই করা কোনো মজার বিষয় নয়। বিশ্ব ইরানি জাতির সত্যিকারের শক্তি সম্পর্কে বুঝতে পেরেছে। আমরা আঞ্চলিক দেশগুলোকে সতর্ক করছি, আপনাদের দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ব্যবহার করে যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালানো হয়, তাহলে সেসব ঘাঁটি আমাদের বৈধ হামলার লক্ষবস্তু হবে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে একটি স্থায়ী ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক বজায় রাখতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ১৪টি দেশের জন্য নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই সব দেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। এ অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সব সময় সতর্ক থাকার পাশাপাশি সর্বশেষ পরিস্থিতির খবর নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, যেকোনো সময় হামলা বা বৈরী পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে নাগরিকদের আগাম নিকটবর্তী নিরাপদ আশ্রয়স্থলের অবস্থান জেনে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট তাদের সর্বশেষ ভ্রমণ নির্দেশনায় দেশ ও শহরগুলোকে দুটি প্রধান ঝুঁকির স্তরে ভাগ করেছে। লেভেল-৩ সতর্কতার আওতায় রয়েছে বাহরাইন, ইসরায়েল, পশ্চিম তীর, জর্ডান, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এসব দেশে ভ্রমণের আগে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ সতর্কতায় সরাসরি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নেই।

অন্যদিকে লেভেল-৪ সতর্কতার তালিকায় রয়েছে ইরান, ইরাক, লেবানন, সিরিয়া, গাজা ও ইয়েমেন। চলমান সংঘাত, সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি এবং অস্থিতিশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এসব এলাকায় মার্কিন নাগরিকদের কোনোভাবেই ভ্রমণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।