Image description

সাধারণ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর নির্বাচন কমিশন। আগামী ২৭ জুলাই এই অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।

আজ শুক্রবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানিয়েছে কমিশন। এতে বলা হয়েছে, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৯ থেকে ১৯ জুন বিকাল ৪টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে ২০ জুন। ওই দিনই প্রকাশ করা হবে বৈধ প্রার্থীদের তালিকা।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের বিরুদ্ধে প্রার্থীরা ২১ থেকে ২৪ জুনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। ২৬ ও ২৭ জুন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই আপিলগুলোর ওপর হবে শুনানি। আপিল নিষ্পত্তির শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ ও ২৯ জুন।

এ ছাড়া প্রার্থীরা ৩০ জুন দুপুর ২টার মধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ১ জুলাই চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা এবং পরদিন ২ জুলাই প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। আগামী ২৭ জুলাই সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (অবসরপ্রাপ্ত) বিচারপতি গোলাম মুস্তফা মুঘল জানান, সেনাবাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত হবে এই নির্বাচন।

তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, ‘আমি আবারও নিশ্চিত করছি এই নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ। ভোটাররা যেন কোনো প্রকার বাধা ছাড়াই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’

নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনের সক্ষমতা নিয়ে কিছু মহলের উদ্বেগের জবাবে তিনি বলেছেন, কমিশন প্রথম দিন থেকেই তার সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত ছিল। বিচারপতি মুঘল আরও উল্লেখ করেন, একটি নির্ভুল ভোটার তালিকাই হলো অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মূল ভিত্তি। শুরুতে কম্পিউটারাইজড ভোটার তালিকা প্রণয়নের কারণে এক আসনের ভোট অন্য আসনে চলে যাওয়ার মতো কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অভিযোগ এলেও প্রশাসন, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমে তা সংশোধন করা হয়েছে।

তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে জানান, ‘আমি এখন দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি আমাদের ভোটার তালিকার ৯৯ শতাংশই সম্পূর্ণ নির্ভুল ও স্বচ্ছ।’

তফসিল ঘোষণার পর থেকেই নির্বাচনী এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদায়ন, বদলি এবং নতুন পদ সৃষ্টির ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো জরুরি কারণে বদলি করতে হলে কমিশনের পূর্বানুমতি লাগবে। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে এমন কোনো নতুন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, বৈদ্যুতিক খুঁটি বা পানির পাইপ বিতরণের মতো কর্মকাণ্ডও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতাভুক্ত চলমান প্রকল্পগুলো যথারীতি চালু থাকবে।

পাকিস্তানে বসবাসরত কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসনের বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, এর আগে এই আসনগুলোর নির্বাচন বিচার বিভাগের তত্ত্বাবধানে হলেও, এবার তা নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হবে।

২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিচারপতি মুঘল আশা প্রকাশ করেন, ২০১৬ সালের মতোই এবারের নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হবে।

জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির (জেএএসি) চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি আন্দোলন নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি যদি অনুকূল না থাকে, তবে নির্বাচন কমিশন তফসিল পুনর্বিন্যাস করার আইনি ক্ষমতা রাখে। পরিবেশ স্বাভাবিক হলেই শুধু ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, এই অঞ্চলে সর্বশেষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২১ সালের জুলাই মাসে। সদ্য প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীরে ভোটার সংখ্যা সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি বেড়েছে। বর্তমান তালিকা অনুযায়ী ৪৫টি নির্বাচনী এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৮ লাখ ৪ হাজার ৩৮৫, যা ২০২১ সালের নির্বাচনে ছিল ৩২ লাখ ২০ হাজার ৫৪৬।

মোট ভোটারের মধ্যে ৩৩টি আঞ্চলিক আসনের জন্য ৩৩ লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৯ জন এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত শরণার্থীদের ১২টি সংরক্ষিত আসনের জন্য ৪ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৬ জন ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন।

এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২০ লাখ ১ হাজার ৭৩০ ও নারী ভোটার ১৮ লাখ ২ হাজার ৬৫৫ জন। নির্বাচনী আসনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় আসন ‘এলএ-৭ ভীম্বর-৩’ (১ লাখ ২৯ হাজার ৯৯৪ ভোটার)। সবচেয়ে ছোট আসন ‘এলএ-৩০ মুজাফফরাবাদ-৪’ (৬৮ হাজার ২২৮ ভোটার)।