মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আলোচক দল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিনিময়ে ইরানকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কোনো প্রস্তাব দেয়নি। মঙ্গলবার এমনটাই মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, যেকোনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগের সঙ্গে সম্পর্কিত।
সিনেটে এক শুনানিতে রুবিও বললেন, ‘এ মুহূর্তে ইরানের সঙ্গে যেসব আলোচনা হয়েছে, সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে যেকোনো নিষেধাজ্ঞা শিথিল হবে শর্তসাপেক্ষে। অর্থাৎ যেসব কারণে প্রথমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর সমাধানের বিনিময়েই তা হবে, আর সেটি হলো তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি।’
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো কংগ্রেসে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে রুবিও জানান, ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম ত্যাগে সম্মত হয়, তাহলে শিথিল করা হবে নিষেধাজ্ঞা।
তিনি বললেন, ‘উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কারণে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাদের পারমাণবিক কর্মকাণ্ডের কারণেই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরান। তারা যদি এসব ত্যাগ করতে রাজি হয়, তাহলে তাদের প্রতিশ্রুতি ও চুক্তি বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্টভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে।’
মঙ্গলবার সকালে সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটিতে সাক্ষ্য দেন রুবিও। এমন সময় তিনি সেখানে হাজির হন, যখন ট্রাম্প প্রশাসন পররাষ্ট্রবিষয়ক বাজেটে ৩০ শতাংশ কাটছাঁট এবং সামরিক ব্যয় ৫০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাবের জন্য অনুমোদন চাইছে কংগ্রেসের।
মঙ্গলবার ও বুধবার আরও তিনটি শুনানিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার। এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার নিজ দল রিপাবলিকানদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে উদ্বেগের লক্ষণ।
ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করা রুবিও ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ফ্লোরিডা থেকে নির্বাচিত সিনেটর ছিলেন। আইনপ্রণেতারা বলেছেন, তারা আশা করছেন তাদের সাবেক সহকর্মী ইরান সংঘাতের অবসান ঘটানোর কৌশল পরিষ্কারভাবে তুলে ধরবেন। এই সংঘাত শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে।